দেবজিৎ মুখার্জি: দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের লড়াই হলো শেষ। ১৮ বছর পর নিজেদের প্রথম আইপিএল ট্রফি জিতল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। রজত পতিদারের নেতৃত্বে নিজেদের প্রথম আইপিএল খেতাব পায় আরসিবি। ফাইনালে তারা পরাজিত করে শ্রেয়াস আইয়ার নেতৃত্বাধীন পাঞ্জাব কিংসকে। ৬ রানে ম্যাচ নিজেদের নামে করে তারা। সৌজন্যে ব্যাট হাতে বিরাট-জিতেশের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং বল হাতে ভুবি-ক্রুনালের অসাধারণ বোলিং। সবমিলিয়ে, বড় ম্যাচে একটি নিখুঁত টিম গেমের উদাহরণ তুলে ধরে বেঙ্গালুরু।
এদিন ম্যাচ খেলা হয় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। নির্ধারিত সময়ের সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ শুরু হয় ম্যাচ। টসে জিতে এদিন প্রথমে বেঙ্গালুরুকে ব্যাট করতে পাঠান পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। শুরুটা ভালো হলেও শেষটা খুব একটা ভালো হয়নি আরসিবির। ঝড়ের গতিতে রান করা শুরু করেছিলেন ওপেনার ফিল সল্ট। তবে তিনি দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। মায়ঙ্ক আগারওয়ালও কিছুক্ষণ পর আউট হন।
ইনিংসের হাল ধরে রাখেন বিরাট কোহলি দলের অধিনায়ক রজত পতিদার ও লিয়াম লিভিংস্টোনকে নিয়ে। ৪৩ রানে আউট হন বিরাট। পরে জিতেশ শর্মা নেমে রান করার গতি বাড়ায় দলের। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৯০। কেউই ৫০ রানের গণ্ডি ছুঁতে পারেননি। শেষ ওভারে অসাধারণ বোলিং করেন পাঞ্জাবের আর্শদীপ সিং।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাবের শুরুটা ভালো হয়। দলকে একটা ভালো স্টার্ট দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তরুণ ওপেনার প্রিয়াংশ আরিয়া। তবে তারপরের দিকে তেমন ভালো পার্টনারশিপ আসেনি দলের থেকে। এদিন ব্যাট কথা বলেনি শ্রেয়াস আইয়ারের। জশ ইংলিস ভালো ব্যাটিং করলেও শেষ পর্যন্ত ক্রুনাল পান্ডিয়ার বলে আউট হন। এরপর বলতে গেলে তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করে পাঞ্জাবের ব্যাটিং অর্ডার, যা বলতে গেলে জয় নিশ্চিত করে দেয় বেঙ্গালুরুর।
শেষ ওভারে বাকি থাকে ২৯ রান এবং তার মধ্যে ২২ রান তুলতে সফল হন শশাঙ্ক সিং। তিনি অর্ধশতরাণ করেন এবং অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে। ২০ ওভার শেষে তাদের স্কোর হয় ৭ উইকেটে ১৮৪। অর্থাৎ ৬ রানে ম্যাচ জেতে বেঙ্গালুরু। বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স আসে ক্রুনাল পান্ডিয়া ও ভুবনেশ্বর কুমারের তরফ থেকে। দুজনেই দুটি করে উইকেট তোলেন। বিশেষ করে ক্রুনালের বোলিং ছিল দেখার মতো। তাঁর বলে পাঞ্জাবের কোন ব্যাটারই রান করতে পারেননি। ম্যাচের সেরা হন তিনিই। সিরিজের সেরা হন সুর্যকুমার যাদব। জয় পাওয়ার পর আনন্দে ফেটে পড়েন আরসিবির ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সমর্থক সকলেই। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বইতে শুরু করে অভিনন্দনের বন্যা।
