দেবজিৎ মুখার্জি: এমনিতেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর যেভাবে ভারতকে আক্রমণ করা হচ্ছিল, তাতে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল দুই দেশের। তার উপর দিপু দাস নামে এক হিন্দু যুবকের নৃশংস হত্যার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, সেই সম্পর্ক আরো খারাপ হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় হিন্দুরা লাগাতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, বলা ভালো এখনো জানিয়ে চলেছেন, এই বিষয়টি নিয়ে। শুধু সাধারণ মানুষই নন, দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক লড়াইয়ের মতো পরিবেশ তৈরি হয়ে গিয়েছে। যদিও ‘এ বাংলার মুখ’ চায়না তা হোক। কারণ বাকি সংবাদমাধ্যমের মতো ধর্মীয় ভেদাভেদের বিরুদ্ধে আমরা।
সেই আঁচ এসে পড়েছে ক্রিকেটের উপরও। ২০২৬ সালের আইপিএল-এর নিলামে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেনায় এক বিজেপি নেতার ক্ষোভের মুখে পড়লেন বলিউডের বাদশা কিং খান, অর্থাৎ শাহরুখ খান। তিনি মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েছেন তাঁর দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে। শুধু জায়গা দেননি, একেবারে রেকর্ড মূল্যে কেনা হয়েছে বাংলাদেশের তারকা পেসারকে। তা দেখে ক্ষুব্ধ উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম। রাগের চোটে তিনি বলিউডের বাদশাকে রীতিমতো ঘুরিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে বসলেন। তা ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছেন নেটপাড়ায়। শাহরুখ খানের ভক্তরাও বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন সেই বিজেপি নেতার মন্তব্যে।
উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন সাংসদের বক্তব্য, “হিন্দুরা একদিকে মার খেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আর এদিকে মোটা টাকায় কেনা হচ্ছে মুস্তাফিজুর রহমানদের। ৯ কোটি টাকা দিয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটার কিনেছে ওই বেইমান অভিনেতা। কোনও অধিকার নেই এই দেশে বেইমানদের বেঁচে থাকার। এই দেশের মানুষই আপনাকে সাহায্য করেছে উচ্চতায় পৌঁছাতে। কিন্তু আপনি বেইমানি করলেন এই দেশটার সঙ্গে।” পাশাপাশি, মুস্তাফিজুর রহমানকেও হুঁশিয়ারি দিলেন সেই বিজেপি নেতা। সঙ্গীত সোম বলেন, “বিমানবন্দরের বাইরে বেরোতে পারবেন না মুস্তাফিজুরের মতো ক্রিকেটাররা।” তবে এই ব্যাপারে তিনি একা নন। সম্প্রতি, উজ্জয়নীর ঋণমুক্তেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহাবীর নাথ বলেছিলেন, “স্টেডিয়ামে ঢুকে আইপিএল নষ্ট করে দেবে হিন্দুত্ববাদীরা যদি ওই বাংলাদেশিকে বিতাড়িত না করা হয়।”

