দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার বঙ্গ রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে আইপ্যাকের অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং প্রতীকের বাড়ি ও অফিস, দুই জায়গা থেকেই ফাইল ও একাধিক নথি নিয়ে বেরিয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে এই মুহূর্তে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই।
আজকের এই ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুলেছে বাংলার অন্য দুই দল বাম-কংগ্রেসও। একদিকে যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বাইনারি পলিটিক্সের দাবি করছেন, তখন অন্যদিকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী ইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেন গ্রেফতার করা হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এছাড়া নিজের অবস্থান জানিয়েছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। তিনি প্রশ্ন তোলেন গোটা ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে।
শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী যখন ফাইল নিয়ে বেরচ্ছিলেন, তখন কেন ওনাকে আটকানো হল না? এটাও কি বাইনারি পলিটিক্স তার মানে?” সুজন চক্রবর্তীর প্রশ্ন, “কেন মুখ্যমন্ত্রীকে আটকানো হলো না ইডির তরফ থেকে?” মহাম্মদ সেলিমের বক্তব্য, “বেআইনি কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কাজে বাধা দিয়ে। ওনাকে সাথ দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারেট এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।” পাশাপাশি ইডিকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “আজকের রেড জানিয়ে করেছে ইডি। এমনটা কখনো হয় না। নিজেদের বড় অংশের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিল আইপ্যাক। যারা পরিচালনা করছে ইডি-সিবিআইকে, তারা চায় না যে সামনে আসুক সঠিক তথ্য। তারা চায় শুধু নাটক হোক।”
যেভাবে এই ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় চলছে গোটা রাজ্যে, তাতে দেখার যে আগামীদিনে কি হয়। জল আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই দেখার যে রায় কার পক্ষে যায় এবং এরপর কি হয়।

