দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এমনিতেই এক চাঞ্চল্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে গোটা বাংলায়, তার উপর আইপ্যাকের অফিস ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা পরিস্থিতি আরো স্পর্শকাতর করে তুলেছে। রাজনৈতিক তরজা যেমন তুঙ্গে, তেমনি গোটা ঘটনাটি হয়ে উঠেছে এক বড় আলোচনার বিষয়। অনেকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন রাজ্য সরকারের দিকে, আবার অনেকের মতে এটি কেন্দ্রে ষড়যন্ত্র। এক কথায় বলতে গেলে, ভোট আবহে এই ঘটনা বিশাল হইচই ফেলে দিয়েছে।
এমন চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবির স্বপক্ষে রবিবার প্রমাণ তুলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ। সমাজমাধ্যমে তিনি দুই ব্যক্তির কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন, যা ঘিরে উত্তেজনার পারদ যে আরো চড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। শুধু তাই নয়, স্ক্রিনশট শেয়ার করে ঘাসফুল শিবিরের অন্যতম প্রভাবশালী মুখপাত্র প্রশ্ন তোলেন যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার যাবতীয় সব গতিবিধি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কিনা। তিনি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত বলে দাবি করেন।
যেই স্ক্রিনশটটি কুনাল ঘোষ শেয়ার করেছেন, তাতে দেখা গিয়েছে যে এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে দাদা বলে সম্বোধন করে বলছেন যে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক সাকেত কুমারের থেকে জানতে পেরেছেন যে তিলোত্তমায় আসছেন ইডির ১৩ জন আধিকারিক এবং দিল্লি থেকে এক ডেপুটি ডিরেক্টর। শুধু তাই নয়, তাতে আরো বলা হয়েছে যে গুলশান রাই নামে এক সাইবার বিশেষজ্ঞ আসবেন এবং একজন আসবেন মহারাষ্ট্র থেকে। তাঁদের সিজিও কমপ্লেক্সে ডাকা হয়েছে জরুরি বৈঠকের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে।
ক্যাপশনে শাসকদলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লেখেন, “আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির নামে বৃহত্তর চিত্রনাট্যের নেপথ্যকাহিনী? সূত্র মারফৎ পাওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথনের এই মেসেজ সত্য হলে চক্রান্তের পুরোপুরি তদন্ত দরকার। আশা করি পুলিশের তদন্তকারীরা দেখবেন। ইডির গতিবিধি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত? প্রশ্নটা উঠছে। খতিয়ে দেখা দরকার। সত্য হলে মারাত্মক।” এই পোষ্ট ভাইরাল দ্রুত ভাইরাল হয় এবং এরপরই শুরু হয় নেটিজেনদের কমেন্ট করা। কেউ কুনাল ঘোষের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। আবার অনেকে করেননি। তবে দিনের শেষে গোটা বিষয়টি নজর কেড়েছে সকলের।

