দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: বর্তমানে এসআইআর নিয়ে তোলপাড় চলছে গোটা বাংলায়। তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। একে অপরকে লাগাতার আক্রমণ করে বেড়াচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। একদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, বিজেপি এসআইআরকে হাতিয়ার করে নোংরা রাজনীতি করছে। অন্যদিকে পদ্ম শিবিরের পাল্টা অভিযোগ, রাজ্য সরকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং বাধা দিচ্ছে কাজে। এরই মাঝে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চ থেকে এসআইআরের বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠালেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন। পাশাপাশি, আওয়াজ ওঠালেন বুদ্ধি পেতে থাকা হিন্দি আগ্রাসন নিয়েও।
কী বললেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী? কবীর সুমনের বক্তব্য, “বাংলায় কথা বললেই দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশী বলে। এরপর তো হিন্দিতেই গান গাইতে বলা হবে। রুখতে হবে এই হিন্দি-হিন্দুত্ব সাম্রাজ্যবাদ। নাহলে দেখবেন বাংলা ভাষার কোনও জায়গা থাকবে না আর এই চলচ্চিত্র উৎসবেও। এর মানে যে বাঙালিয়ানা এই নয়, কিন্তু এটা তো কস্মিনকালেও ছিল এই যে ধর্মভিত্তিক সবকিছু। এই আগ্রাসন যে দিনদিন বাড়ছে, তা এখনই যদি প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ না করা সম্ভব হয়, তাহলে বঙ্গবাসী কেই আগামীদিনে সম্মুখীন হতে হবে সমস্যার।”
সোনার বাংলা বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন কবীর সুমন। প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পীর বক্তব্য, “ছবিতে এই গান প্রথম প্লেব্যাক করেছিলেন আমার বাবা সুধীন চট্টোপাধ্যায়। সেটা জাতীয় সঙ্গীত বাংলাদেশের। কিন্তু এখানে আমার গান সেটা। সকলের এই গান। যেকোনও গান আমি গাইবো। তাতে তার কী?” বলে রাখা ভালো, এসআইআরের পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক হেনস্তা ইস্যু নিয়েও উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। উল্লেখ্য, এসআইআরের আতঙ্কে রাজ্যে ইতিমধ্যে বহু সাধারণ মানুষ আত্মহত্যা করেছেন, যা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই পথে নেমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা নিজেদের অবস্থানে জানিয়েছে যে যদি কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যায়, তাহলে দিল্লিতে তারা আন্দোলন করবে।
