দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রাজ চক্রবর্তীর কোনও ছবি মুক্তি পেতে চলেছে, এটা জানাজানি হলেই এক আলাদা উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায় বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে তাঁর ছবির টিজার বা ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় সিনেমাপ্রেমীদের, তা দেখার জন্য, উন্মাদনা। ব্যতিক্রম হয়নি ‘হোক কলরব’এর ক্ষেত্রেও। তার উপর ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন দক্ষ অভিনেতা। সবমিলিয়ে, আগামী ২৩শে জানুয়ারি মুক্তি পেতে চলা এই ছবিটি নিয়ে সকলের আগ্রহ একেবারে আকাশ ছুঁয়েছে।
তবে এই উন্মাদনার মাঝেও ‘হোক কলরব’ জড়িয়ে পড়ল বিতর্কের জালে। ছবিটির একটি ডায়লগ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে, যা শুনে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন রাজ্যের সিনেমাপ্রেমী থেকে শুরু করে বহু সাধারণ মানুষ। কী সেই ডায়লগ? শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এই ছবিতে এক আইপিএস অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করছেন। নাম ক্ষুদিরাম চাকী। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “নমস্কার, আমি ক্ষুদিরাম চাকী। না, আমি ঝুলি না, ঝোলাই!” তা শুনেই রেগে লাল নেটিজেনরা। অধিকাংশই এর নিন্দা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে বিপ্লবীদের অপমান করা হয়েছে। যদিও রাজ চক্রবর্তী ও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, দুজনেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কী বক্তব্য তাঁর? তিনি বলেন, “ওনার সচেতন হওয়া দরকার ছিল। উনি চাইলে অন্য নাম রাখতে পারতেন। এটা সমাজমাধ্যমের যুগ। সামান্য ভুল হলেই মানুষ ইস্যু করে নেয়। এমন নাম হয়তো অনেক আগে ব্যবহার হয়েছে, তখন তো এতটা শক্তিশালী ছিল না সোশ্যাল মিডিয়া। আমার বাবার রবীন্দ্রনাথ ব্যানার্জি আর আমি তার মেয়ে রচনা ব্যানার্জি। এই রবীন্দ্রনাথ এদিকে আয় অনেকে বলতো। তাহলে যদি বলেন তুই-তুকারি করা হয়েছে, সেটা তো নয়। আমার বাবার নাম সেটা।”
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, “তাই উনিও হয়তো সেইভাবে নামটা রেখেছে ক্ষুদিরাম চাকী। এখন অনেকে হয়তো ভাবছেন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম রাখা হয়েছে এভাবে। এর থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের জীবনে আছে, যা নিয়ে আলোচনা করা উচিত এবং ভাবা উচিত। এই ব্যাপারে ওনার সচেতন হওয়া উচিত। অন্য নাম রাখতে পারতেন উনি চাইলে। কিন্তু ভুল তো মানুষ মাত্রই হয়। হয়তো সেটা ওনার হয়ে গেছে।”
