দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ২০২৬ সালে বাংলার মাটিতে হবে বিধানসভা ভোট। এমনিতেই গোটা বাংলাজুড়ে এক চাঞ্চল্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে আসন্ন এই নির্বাচন নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের সিংহাসনে বসাকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজানো শুরু করে দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস সকলেই। বলা ভালো, ‘বেঙ্গল হ্যাজ বিকাম ব্যাটেলফিল্ড’। অর্থাৎ যুদ্ধের ময়দানের চেহারা নিয়েছে গোটা রাজ্য। এমন পরিস্থিতিতে নানা ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরকে নিয়মিত আক্রমণ করে চলেছে। এক কথায় বলতে গেলে, কোন শিবিরই জমি ছাড়তে নারাজ। সকলেই তৈরি হচ্ছে আঁটঘাট বেঁধে ময়দানে নামতে।
এই আবহাওয়ায় ধর্ম একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। যদিও শুধু বঙ্গ রাজনীতি বললে ভুল হবে। গোটা দেশেই ‘কমিউনাল পলিটিক্স’ একটা বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও ‘এ বাংলার মুখ’ রাজনীতির মধ্যে নাক গলাবে না। আমাদের মূল উদ্দেশ্য সমাজে চলতে থাকা বিভিন্ন সোশ্যাল ইসুগুলি পাঠকদের নজরে নিয়ে আসা। শুধু পাঠক নয়, আমাদের লক্ষ্য গোটা বাংলার সকল মানুষ যেন প্রকৃত সত্য জানতে পারেন। সুতরাং কোন দল ঠিক বা কোন দল ভুল, সেই ব্যাপারে আমরা আলোচনা করতে বিন্দুমাত্র ইচ্ছুক নই।
যাই হোক! এবার মূল বিষয়টিতে আসা যাক। গত রবিবার ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করা হয় ব্রিগেডের ময়দানে আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠনের তরফ থেকে। সেই সময়ে শেখ রিয়াজুল নামে এক প্যাটিস বিক্রেতাকে আমিষ বিক্রি করায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, আরো অভিযোগ, তাঁকে কান ধরে ওঠবস পর্যন্ত করানো হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগেনি। একেবারে দ্রুতগতিতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে এখন এটি হয়ে উঠেছে আলোচনার বিষয়। অনেকেই এই নিয়ে পোস্ট করেছেন এবং নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। আক্রান্ত রিয়াজুল ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন এবং জানিয়েছেন কি হয়েছিল তাঁর সঙ্গে। এমনকি চিন্তার বিষয় এটা যে তিনি দাবি করেছেন যে মুসলিম নাম শুনে তাঁর সমস্ত জিনিসপত্র উল্টে দেওয়া হয়।
এবার এর জল গড়ালো থানায়। মঙ্গলবার ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক আইনজীবী। গণপিটুনির অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, পুলিশ যাতে এই ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, সেই আবেদন পর্যন্ত করা হয় তাঁর তরফ থেকে। সায়নের অভিযোগ, “পশ্চিমবঙ্গে এরা উত্তরপ্রদেশের গণপিটুনির কালচার আনতে চাইছে।” ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে তাদের তরফ থেকে। যদিও একটু আগে যেটা বলা হয়েছে, সেটা ফের বলবো যে যেহেতু সোশ্যাল ইস্যু তুলে ধরা আমাদের মূল লক্ষ্য, তাই আমরা সেটুকু নিয়েই কথা বলব। রাজনীতির মধ্যে ‘এ বাংলার মুখ’ ঢুকবে না।
বিঃদ্রঃ: এই খবর থেকে আমরা ধর্মকে কেন্দ্র করে দেশে চলতে থাকা সমস্যার কথাগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কোনও রাজনীতি যুক্ত নেই এর সঙ্গে।

