নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ। প্রতিনিয়ত সেখানে যেই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে, তা দেখে গা শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্বের। বলা ভালো, ইউনুস আমলে জ্বলছে মুজিবের দেশ। সেই দেশ যা একটা সময় গোটা বিশ্বের কাছে এক বড় উদাহরণ ছিল সম্প্রীতির। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই তৈরি হয় অরাজকতা। বিশেষ করে সম্প্রতি দিপু দাস হত্যাকান্ডের পর গোটা বিশ্বের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এরই মাঝে সেই দেশে নেমে এলো শোকের ছায়া। বলা ভালো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলকে ঘিরে ধরল দুঃখের কালো মেঘ। না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। মৃত্যুর সময় দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বয়স ছিল ৮০। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই যুদ্ধে জয়ী হননি তিনি। মঙ্গলবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহাম্মদ ইউনুসের তরফ থেকে।
নিজের শেষ জীবনে খালেদা জিয়া ভুগছিলেন কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস, চোখের সমস্যায়। লন্ডনেও নিয়ে গিয়ে ৬ মাস চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু তাতেও তেমন লাভ হয়নি। চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর, বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ভর্তি করানো হয় ঢাকার হাসপাতালে। দেশি-বিদেশি ডাক্তারদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড পর্যন্ত গঠন করা হয়। মাঝেমাঝে চিকিৎসায় সাড়াও দিতেন। সোমবার রাতে পুত্র তারেক মাকে হাসপাতালে দেখা করতে যান। শুধু তাই নয়, দলীয় দপ্তরের সামনে থেকে তিনি প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছিলেন খালেদা জিয়ার আরোগ্যকামনায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়ে ওঠেনি তাঁকে বাঁচানো।
ডাক্তাররাই এদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এই খবর জানাজানি হতেই তাঁর পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে তাঁর অনুগামীরা, সকলেই দুঃখ পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলিতেও একাধিক পোস্ট দেখা যায় খালেদা জিয়াকে নিয়ে। সকলেই তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অনেকে আবার এটাও দাবি করেছেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জগতে নক্ষত্রপতন হয়েছে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে। শুধু বাংলাদেশ থেকেই নয়, অন্যান্য দেশের রাজনীতিবিদরাও শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর মৃত্যুতে।
