পূর্বস্থলীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বড় উদাহরণ! হিন্দু-মুসলিম মিলে ওলা দেবীর পূজোর আয়োজন

পূর্বস্থলীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বড় উদাহরণ! হিন্দু-মুসলিম মিলে ওলা দেবীর পূজোর আয়োজন

দেবজিৎ মুখার্জি, পূর্ব বর্ধমান: “মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মোসলমান। মুসলিম তার নয়ণ-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।” বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এই কবিতা আজও লেগে রয়েছে সকল রাজ্যবাসীর মনে। বলা ভালো, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এই কবিতাটি আজও জনপ্রিয়। বর্তমানে রাজনৈতিক কারণে এখন সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যে খুব একটা দেখা যায় না, তা না বললেও চলে। মাঝেমধ্যেই নিউজ চ্যানেলগুলি থেকে উঠে আসে সাম্প্রদায়িক হিংসার খবর।

তবে এমন আবহাওয়াও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বড় উদাহরণ দেখা গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীতে। ১ নম্বর ব্লকের নসরতপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নিংড়ায় শ্যামাকালী পূজার সূচনা হয় মুসলিম মৌলবির আজান ও হরিলুটের মধ্যে দিয়ে। পুজো প্রাঙ্গনে আজানের পর ভক্তদের মধ্যে দেওয়া হয় হরিলুটের বাতাসা। জানা গিয়েছে, পূজো উদ্যোক্তারা পুজোর গত কয়েকদিন আগে মুসলিম বাড়ি থেকে চাল ভিক্ষা করে আনেন এবং তা বিক্রি করে বাতাসা, গুড় পাটালি সহ অন্যান্য উপকরণ কেনা হয়। 

এই পুজোকে মানুষে ‘ওলা দেবীর পুজো’ নামেও চেনেন। যদিও এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে এক ইতিহাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এই পুজো প্রায় ২৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো। মন্দিরের পূজারীর বক্তব্য, এই রীতি বছরের পর বছর ধরে চলছে। তবে জানা গিয়েছে যে অনেক বছর আগে এই অঞ্চলে কলেরা মহামারীর রূপ নেওয়ায় একের পর এক মানুষ মারা যাচ্ছিলেন। তখন সেই এলাকার মানুষ সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষরাও জাত-ধর্ম ভুলে ওলা দেবীর শরণাপন্ন হন এবং আয়োজন করেন পুজো করার।

সেই থেকে এই পুজো বছরের পর বছর ধরে করা হয় এই অঞ্চলে। হিন্দু-মুসলিম ভুলে সকলে এক হয়ে এই পূজোর আয়োজন করেছিলেন। জানা গিয়েছে, এই পুজো শুরু হয় আজান দেওয়ার পর। সেই পুরনো প্রথা আজও চলে আসছে। প্রতিবারই পুজোতে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে অন্যান্য সাধারণ মানুষের উপস্থিতি থাকে একেবারে দেখার মতো। এর থেকে প্রমাণিত যে হাজার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আজও বজায় রেখেছে কিছু মানুষ।

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *