দেবজিৎ মুখার্জি: আজ যেন গোটা বাংলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের মতো পরিস্থিতি। শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকারা নন, খুশি হয়েছেন বহু সাধারণ মানুষও। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, অনেকে যেন আজ মনে করছেন যে সত্যের জয় হয়েছে। বছরের পর বছর যেই লড়াই করে এসেছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা, তার সুফল মিলল আজ। বছর দুয়েক আগে রাজনৈতিক লড়াইয়ের জল গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। মাশুল দিতে হয়েছিল অজস্র প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের। কিন্তু এর সঙ্গে এটাও জানিয়েছিলেন যেন তাঁরা যেন কর্মরত থাকেন। এরপর সেই মামলা চলতেই থাকে এবং অবশেষে তাতে জয় পান শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। কোন যুক্তিতে ডিভিশন বেঞ্চের তরফ থেকে এমন রায় দেওয়া হয়েছে, সেই ব্যাপারেও সব কিছু জানানো হয়েছে। বিচারপতিদের বক্তব্য, পরিবারগুলির উপর বিশ্রী প্রভাব পড়তে পারে যদি ৯ বছর পর বাতিল করে দেওয়া হয় চাকরি। খবর প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো আনন্দে মেতে ওঠেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর এই জয় তাঁদের মুখে যে হাসি ফুটিয়েছে, তা ছিল একেবারে দেখার মতো। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সমাজমাধ্যম থেকে এই রায় ঘোষনার পর। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তিনি দাবি করেন যে সত্যের জয় হয়েছে।
শিক্ষকদের মধ্যে এক আলাদাই খুশির হাওয়া বইছে এই মুহূর্তে। তাদের আনন্দে মেতে ওঠা ছিল একেবারে দেখার মতো। বলা ভালো, সেই মুহূর্তে যাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাঁরাই হয়তো ভালো করে বলতে পারবেন পরিস্থিতি কেমন ছিল। শিলিগুড়িতে আবার এক আলাদা চিত্র দেখা যায়। সেখানকার বাঘাযতীন পাঠ সংলগ্ন এলাকায় রীতিমতো মিষ্টিমুখ পর্যন্ত করানো হয় পরস্পরকে। এক কথায় বলতে গেলে, আজ যেন অনেকে আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলিতেও এই সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট দেখা যায়। শিক্ষকদের এই খুশি ভাগ করে নিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষও। অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি অনেকে আবার দাবি করেছেন যে শিক্ষকদের মুখে হাসি ফুটেছে দেখে তাঁরাও খুশি।
বিঃদ্রঃ: এই খবর থেকে আমরা শিক্ষকদের জয় ভাগ করে নিয়েছি। কোনও রাজনীতি যুক্ত নেই এর সঙ্গে।
