রণক্ষেত্র ভাঙড়! অশান্তি তৃণমূল-আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে, জখম একাধিক

রণক্ষেত্র ভাঙড়! অশান্তি তৃণমূল-আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে, জখম একাধিক

দেবজিৎ মুখার্জি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আইএসএফ শাসিত ভাঙড়। রবিবার অশান্তিতে জড়ালেন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও আইএসএফের কর্মীরা। দুই দলেরই বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে দুপক্ষের তরফ থেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামে পুলিশ। এমনকি পুলিশ পিকেটিংয়েরও ব্যবস্থা করা হয় এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা আইএসএফ গড়ে। 

জানা গিয়েছে, ঘাসফুল শিবিরের নেতা মহসিন গাজির একটি রাস্তা উদ্বোধনের কর্মসূচি ছিল শানপুকুরের চিনা পুকুরে। সেই কর্মসূচিতে আইএসএফের লোকেরা চড়াও হন এবং বাধা দেন। তৃণমূল কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে তাঁদের মারধর করা হয় বন্দুকের বাঁট দিয়ে। শাসকদলের ৩ কর্মীকে বিশাল মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। চোখের নিমেষে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অভিযোগ, দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় চরম অশান্তি। 

অন্যদিকে, রবিবারই আইএসএফের উদ্যোগে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল নিমকুড়িয়া গ্রামে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও। অভিযোগ, যখন দলের কর্মীরা রক্তদাতাদের শিবিরে নিয়ে আসছিলেন, তখন তাঁদের বাধা দেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা এবং মারধর করেন। ঘটনায় জখম হন ৪ আইএসএফ কর্মী এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে। একইদিনে দুই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে ওটা ভাঙড়ে।

এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশের তরফ থেকে পিকেটিং চালানো হয় পোলেরহাট ও শানপুকুর এলাকায়। ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, “পরপর রক্তদান শিবির করছে আইএসএফ। কোনও বাধা দেওয়া হয়নি কোথাও। বরং ওরা আমাদের বাধা দিয়েছে রাস্তা উদ্বোধনের কাজে এবং মারধর করেছে আমাদের কর্মীদের।” অন্যদিকে, নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী বাধা দিয়েছে রক্তদান শিবিরে আসতে। হাসপাতালে ভর্তি আমাদের ৩-৪ জন কর্মী। আইনি পথে হাঁটবো যদি পুলিশ ব্যবস্থা না নেয়।” এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কি হয়।

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *