মমতা বনাম ইডি ঘিরে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি

মমতা বনাম ইডি ঘিরে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি

দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই ব্যাপক চাঞ্চল্য বঙ্গ রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার সকালে ইডি হানা কলকাতাতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা কয়লা পাচার মামলার তদন্তে হানা দিলেন আইপ্যকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। খবর পেয়েই আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি ও সংস্থার দপ্তরে ছুঁটে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং একাধিক নথি ও ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একহাত নেন ইডিকে। যদিও অপরপক্ষও নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দ্বারস্থ হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের।

প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক এই অভিযান। আমার আইটি দপ্তরে অভিযান চালানো হয়েছে। ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার ইডি দিয়ে হামলা করেছেন দলের সকল গোপন নথি ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতে। কিছু ফাইল ও হার্ড ডিস্ক আমি নিয়ে যাচ্ছি। এগুলি আমার দলে। নিয়ে যাচ্ছি আমি।” এরপরই তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার। ভোটারদের বিনা নথিতে সন্দেহ করা হচ্ছে। রক্ষা করতে পারে না দেশটাকে। খালি ষড়যন্ত্র করে। আইপ্যাক অফিসে হানা আমার দলের গোপন তথ্য জানার জন্য। যদি আমি বিজেপি অফিসে হানা দিই।” আইপ্যাকের অফিসে দাঁড়িয়েও ইডি ও কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

দুপুর ১টা ৩৮ মিনিট নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “এই ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিল হবে ব্লকে, ওয়ার্ডে। সকলেই মিছিলে যোগ দেবেন এসআইআরের কাজ যাঁরা করছেন, তাঁরা বাদ দিয়ে। মিছিল করা হবে বিজেপির এই আক্রমণ, লুট, ডাকাতির বিরুদ্ধে।” তৃণমূল সুপ্রিমো উত্তেজিত হয়ে বলেন, “ক্ষমতা থাকলে লড়াই করুক সামনাসামনি। যদি ভেবে থাকো যে তোমরা টিকে থাকবে ভোটার নাম বাদ দিয়ে, ডেটা চুরি করে, মানুষের উপর অত্যাচার করে, তাহলে জেনে রাখুন গোটা দেশ অশান্ত হয়ে উঠবে যদি বাংলা অশান্ত হয়।” অন্যদিকে, প্রতীক জৈনের স্ত্রীর তরফ থেকে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় ইডির বিরুদ্ধে নথি চুরির। ঘাসফুল শিবিরও বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে। 

তবে ইডির তরফ থেকেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বলে খবর। শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে শুক্রবার। অন্যদিকে, অবস্থান জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “ইডির কাজে আসলে বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা অনৈতিক ও অসাংবিধানিক। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ইডির। সেটা না হলে ভুল বার্তা যাবে রাজ্যে। আইপ্যাক কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়, কর্পোরেট সংস্থা। সুতরাং সেখানে তদন্ত চলতেই পারে নিয়ম মেনে।”

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *