দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে আইপ্যাকের দপ্তর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার ঘটনা। তার উপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঙ্কার আরও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্তও। কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং মামলা দায়েরের অনুমতি পর্যন্ত পেয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো বৃহস্পতিবার প্রতিটি ব্লকে ও ওয়ার্ডে প্রতিবাদের আদেশ দিয়েছেন। এক কথায় বলতে গেলে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত রাজ্যের।
এরই মাঝে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের অফিসের বাইরে ঘটে মারাত্মক ঘটনা। দপ্তর থেকে বেরোনোর পরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান শাসকদলের কর্মী ও সমর্থকরা। শুধু বিক্ষোভ দেখানো নয়, স্লোগান পর্যন্ত তোলা হয়। ইডি অধিকারীদের লক্ষ্য করে তোলা হয় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের ‘বিজেপির দালাল’ ও ‘চোর’ পর্যন্ত বলা হয়। সন্দেশখালি মতো ঘটনা যাতে না হয়, সেই কথা মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আধিকারিকদের গাড়িতে তোলার ব্যবস্থা করা হয়। সেই এলাকার অবস্থা পড়ে স্বাভাবিক হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, এখনো সেখানে ভিড় রয়েছে অজস্র মানুষের।
অন্যদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামীকাল পথে নামবেন। শুক্রবার দুপুর দুটো নাগাদ তৃণমূল সুপ্রিমো, দলীয় নেতা ও কর্মীদের নিয়ে, রাস্তায় নামবেন। তিনি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত। পাশাপাশি, ঘাসফুল শিবিরও ইডির এই তল্লাশি অভিযানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। জানা গিয়েছে, মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে এবং শুক্রবার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতীক জৈনের পরিবারও আদালতে গিয়েছে এই ব্যাপারে। বলা ভালো, বৃহস্পতিবারের ঘটনা ব্যাপক হইচই ফেলেছে গোটা রাজ্যে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বঙ্গ রাজনীতিতে। এবার দেখার যে শেষ পর্যন্ত জল কতদূর গড়ায়। আগামীদিনে কি হয়, সেটাই এখন দেখার।

