দেবজিৎ মুখার্জি: বর্তমানে মুজিবের দেশ বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। প্রতিনিয়ত সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে চলেছেন হিন্দুরা। শুধু নির্যাতন নয়, তাঁদের হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে, যা ঘিরে চরম সমালোচনা শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বে। ভারতবর্ষের রাজনীতিতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। একদিকে যখন গেরুয়া শিবির হিন্দুদের জেগে ওঠার বার্তা দিয়ে চলেছেন, ঠিক তখন অন্যদিকে বিরোধীরা শাসকের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে যাচ্ছে। এক কথায় বলতে গেলে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরে বিশাল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।
এবার বিরোধীদের এই বিষয়ে তোপ দাগলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কী বললেন তিনি? শনিবার, ১০ জানুয়ারি, প্রয়াগরাজের মাঘ মেলায় জগৎগুরু রামানন্দাচার্যের ৭২৬তম জন্মোৎসব অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে বক্তব্য রাখেন যোগী আদিত্যনাথ এবং এই ব্যাপারে আক্রমণ করেন সকল বিরোধী দলকে। এদিনের এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী স্বতন্ত্র দেব সিং, নন্দগোপাল গুপ্ত নন্দী সহ একাধিক সাধু-সন্ত ছিলেন। নিজের বক্তব্যে রামরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সকল হিন্দুদের উদ্দেশ্যে এক হয়ে থাকার বার্তা দেন।
এদিন যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “নিজেদের যাঁরা সেকুলারিজমের ঠিকাদার মনে করেন, তাঁদের কোনও মোমবাতি মিছিল দেখা যায় না বাংলাদেশে হিন্দু নিধন নিয়ে। আসলে তাঁদের মধ্যে শক্তি রয়েছে হিন্দু সমাজকে ভাঙার এবং সনাতন ধর্মকে দুর্বল করার। কিন্তু তাঁদের আওয়াজ তোলার সাহস নেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে।” এরপর তাঁর হুঁশিয়ারি, “ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এই বিভাজন ও তুষ্টিকরণের রাজনীতি। যে সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, তা একটা বড় সতর্কবার্তা ভারতের জন্য।”
পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অস্তিত্বকে বিপদে ফেলবে জাতপাত বা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন। এরা যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন কিছুই ভাবতে পারে না পরিবারের বাইরে। গোটা বিশ্বে সনাতন ধর্মের জয়গান ছড়িয়ে পড়েছে অযোধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে রামমন্দিরের নির্মাণের দ্বারা। এভাবেই সমাজকে ৭২৬ বছর আগে এক করেছিলেন জগৎগুরু রামানন্দাচার্যও। তিনি এক সূত্রে বেঁধেছিলেন কবীর দাস থেকে শুরু করে রবিদাসের মতো সন্তদের।” যোগী আদিত্যনাথ সকলকে স্পষ্ট করে দেন যে হিন্দু সমাজ এক হয়ে থাকলেই সুরক্ষিত থাকবে, নাহলে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।

