দেবজিৎ মুখার্জি: আরসিবির বিজয় উৎসবে ঘটলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কি ঘটেছে? পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের এবং আহত হয়েছেন ৩৩ জন। এমনটা জানালেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এম সিদ্দারামাইয়া। মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে আর্থিক সহায়তা হিসেবেও বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সেই রাজ্যে। পাশাপাশি, গোটা ভারতীয় ক্রিকেট মহল বেশ শোক পেয়েছে এই ঘটনায়। বলা যায়, এটি এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার, ৩রা জুন, দীর্ঘ ১৮ বছরের লড়াই শেষ হয়েছে বিরাট কোহলির রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আইপিএলের ফাইনালে তারা মুখোমুখি হয়েছে পাঞ্জাব কিংসের। ব্যাটারদের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং বোলারদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সাহায্যে ম্যাচ নিজেদের নামে করতে সফল হয় বেঙ্গালুরু। তবে এই জয় একেবারেই সহজে পায়নি তারা। বেশ ভালো লড়াই দেয় পাঞ্জাব। মাত্র ৬ রানে ম্যাচ জেতে বেঙ্গালুরু। অল্পের জন্য ট্রফি থেকে বঞ্চিত হয় পাঞ্জাব।
ভারতীয় ক্রিকেটের এই জনপ্রিয় ফ্রাঞ্চাইজি লিগে শেষ পর্যন্ত নিজেদের ছাপ ফেলতে পেরে বেশ খুশি আরসিবি দল সহ তাদের সমর্থকরা। তাদের তরফ থেকে এই উপলক্ষে একটি বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়, যা দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কিন্তু এই উৎসবেই ঘটে বড় দুর্ঘটনা। সমর্থকরা স্টেডিয়ামের গেট ভেঙে দেন এবং এর জেরে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। দ্রুত সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেলিব্রেশন করতে পেরেছে গোটা দল।
এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এম সিদ্দারামাইয়া নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মোট ১১ জনের। ৩৩ জন আহত হয়েছেন। অধিকাংশ মৃতেরই বয়স কম। আমরা ১০ লক্ষ টাকা তাদের পরিবারপিছু দেবো আর্থিক সহায়তা হিসেবে। এমনটা হবে তা কেউ কল্পনা করতে পারেনি। স্টেডিয়ামের কাছেই ২-৩ লাখ মানুষ এসেছিলেন। ছোট গেটটা সমর্থকরা ভেঙে দেন এবং এর জন্যই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হবে।”
উল্লেখ্য, ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান তুলেছিল বেঙ্গালুরু। দলের কোন ব্যাটারই অর্ধশতরানের গণ্ডি ছুঁতে পারেনি। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে ২০ ওভার শেষে পাঞ্জাব করে ৭ উইকেটে ১৮৪। ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় ক্রুনাল পান্ডিয়াকে। অন্যদিকে, সিরিজের সেরা হন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সূর্যকুমার যাদব। এই জয়ের পর গোটা স্টেডিয়ামের চেহারা পাল্টে যায়। আনন্দে ফেটে পড়েন আরসিবির ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সমর্থক সকলেই।
