দেবজিৎ মুখার্জি: ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে টিম ইন্ডিয়ার বিজয়রথ ছোটা অব্যাহত। পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের অন্তিম ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের ৩-১ ফলাফলে পকেটে তুলল ‘মেন ইন ব্লু’। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তারা পরাজিত করল ৩০ রানে। সৌজন্যে তিলক বর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়ার মারকুটে ইনিংস এবং বল হাতে বরুণ চক্রবর্তী ও জাসপ্রিত বুমরাহের দুর্দান্ত বোলিং। এক কথায় বলতে গেলে, ‘টিম গেম’ কাকে বলে তা একেবারে দেখিয়ে দিয়েছে ভারত। যদিও বড় রান তাড়া করতে নেমে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার তরফ থেকেও। তবে তা কাজে আসেনি শেষ পর্যন্ত। বলা ভালো, অল্পের জন্য জিততে পারল না তারা।
শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ডিসাইডার ম্যাচটি খেলা হয় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে নেমেই আগ্রাসী রূপ ধারণ করতে শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। প্রথম ওভার থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের আক্রমণ করতে শুরু করেন দুজনে। এর ঝড়ের গতিতে রান হতে থাকে। যদিও সঞ্জু ও অভিষেক, দুজনেই অর্ধশতরান করতে পারেননি। তবে তাঁদের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৭ ও ৩৪ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। যদিও সেই কাজটি করে দেখান তিলক বর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়া। দুজনেই অর্ধশতরানের গন্ডি পার করেন। তিলক আউট হন ৭৩ রানে এবং হার্দিক ৬৩তে। ব্যাটারদের দাপটের জেরে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাড়ায় ৫ উইকেটে ২৩১।
২৩২ তারা করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটাও ভালো হয়। তবে সেই মোমেন্টাম কাজে লাগাতে পারেনি তারা। মাঝের ওভারগুলিতে উইকেট পড়ে যাওয়ায় রান করার গতিতেও বেগ লাগে এবং স্বাভাবিকভাবেই চাপে পড়ে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হয় ঠিকই। ২০০ রানের গন্ডি পর্যন্ত পেরোতে সফল হয় তারা। ২০ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২০১। সর্বোচ্চ ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন কুইন্টন ডি কক। ভারতের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিজের ঝুলিতে তোলেন বরুন চক্রবর্তী। এছাড়া একেবারে অল্প রান দিয়ে দুটি উইকেট নিজের নামে করেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় হার্দিক পান্ডিয়াকে এবং সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন বরুণ চক্রবর্তী।

