দেবজিৎ মুখার্জি: অবশেষে চলতি আইপিএলে খাতা খুললো গতবারের জয়ী দল কেকেআর, ওরফে কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে তারা পেলো জয়। তাদের হাতে পরাজিত হলো রাজস্থান রয়েলস। শুধু জয় বললে ভুল হবে। একেবারে বড় মার্জিনের জয় বলতে যা বোঝায়, ঠিক সেটাই পেল তারা। ৮ উইকেটে ম্যাচ নিজেদের নামে করেন অজিঙ্কা রাহানে ও তাঁর বাহিনী। দলের ক্রিকেটারদের পারফরমেন্সে মুগ্ধ হয়েছে প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা তাকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমী সকলেই। সবমিলিয়ে, দাপটের সঙ্গে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে নিল নাইটরা।
তবে এই জয়ের নায়ক কুইন্টন ডি কক। ব্যাট হাতে তিনি, স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের সামনে, তুলে ধরেন এক দুর্দান্ত ইনিংস। ৬১ বল খেলে তিনি করেন ৯৭ রান, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি চার এবং ৬টি ছয়। রাজস্থানের বোলাররা রীতিমতো হিমশিম খান তাঁর সামনে। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলেন তিনি। বলা যায়, প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত কামব্যাক করেন ডি কক। তাঁর এই ঝড়ের গতি ইনিংস মন জিতেছে দলের মালিক, কোচ, মেন্টর থেকে শুরু করে গোটা শিবিরের। সবমিলিয়ে, ডি কক ঝড়ে উড়ে গেছে রাজস্থান। তাঁকেই ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয়।
এদিন টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন নাইট অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। শুরুর কয়েকটি ওভার ভালো হলেও তারপর চিত্র পাল্টে যায়। দশ ওভারের মধ্যেই দলের চার ব্যাটার ফিরে যান প্যাভিলিয়ন। ব্যাট হাতে কেউই তেমন দাগ কাটতে পারেননি। কেকেআরের বোলারদের বিরুদ্ধে রান করতে বেশ কষ্ট করতে হয় রাজস্থানের ব্যাটারদের। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৫১। সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন ধ্রুব জুড়েল। নাইটদের বোলারদের মধ্যে দুটি করে উইকেট তোলেন রানা, আরোরা, মইন ও বরুন এবং একটি উইকেট পান জনসন।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি কলকাতার। ১২ বলে ৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মইন আলি। এরপর অধিনায়ক রাহানেকে নিয়ে একটি ছোট পার্টনারশিপ গড়েন কুইন্টন ডি কক। একদিকে যেমন ধরে খেলছিলেন রাহানে, তেমনি অন্যদিকে চালিয়ে খেলছিলেন ডি কক। ১৮ রান করে আউট হন নাইট অধিনায়ক। এরপর নামেন অঙ্কৃষ রঘুবংশী। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ফিনিশ লাইন পার করান কুইন্টন ডি কক। ছক্কা হাকিয়ে ম্যাচ ফিনিশ করেন তিনি। তাঁর এই ইনিংস প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের। সমাজমাধ্যমগুলিতে ক্রিকেটপ্রেমীরা এই মারকুটে ইনিংসকে ঘিরে পোস্ট করেন। বলা যায় চোখের নিমেষে এটি ভাইরাল হয়ে গেছে। এবার দেখার বিষয় যে পরবর্তী ম্যাচে তিনি কেমন খেলা দেখান।

