দেবজিৎ মুখার্জি: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার মহাম্মদ কাইফ। কি বলেছেন তিনি? শ্রেয়াস আইয়ারকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজে সুযোগ না দেওয়ায় তিনি বোর্ডের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন। প্রাক্তন তারকার মতে লিমিটেড ওভার ফরম্যাটের ভিত্তিতে একজনকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে আর অপরজনকে নয় এবং এটি দ্বিচারিতা। এখানেই শেষ নয়, পাঞ্জাব কিংস অধিনায়কের পক্ষ নিয়ে কাইফ আরো জানান যে শ্রেয়াস দারুন ফর্মে রয়েছেন এবং চলতি আইপিএলে ব্যাট হাতে তিনি রান পেয়েছেন। সবমিলিয়ে, শ্রেয়াসকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি ক্ষুব্ধ বোর্ডের উপর।
আর মাত্র কটা ম্যাচ। তারপরই শেষ হবে আইপিএল। এরপর ভারতীয় ক্রিকেট দল পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ম্যাচগুলি খেলা হবে ইংল্যান্ডের মাটিতে। ইতিমধ্যেই কারা থাকবেন দলে, তা ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে বোর্ডের তরফ থেকে। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলাবেন গুজরাট টাইটানস অধিনায়ক শুভমান গিল। সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে এলএসজি অধিনায়ক ঋষভ পান্থকে। দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, দুজনেই জায়গা পেয়েছেন।
তবে শ্রেয়াস আইয়ারের বাদ পড়া রীতিমতো হতাশ করেছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। চলতি আইপিএলে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চলেছেন পাঞ্জাব অধিনায়ক। তা দেখে অনেকেই আশা করেছিলেন যে তিনি হয়তো ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে সুযোগ পাবেন। কিন্তু দল ঘোষণার সময়, যখন তাঁর নাম শোনা যায়নি, তখন অনেকেই ক্ষুব্ধ হন এবং প্রশ্ন তোলেন যে ঠিক কিসের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হলো প্রাক্ত নাইট অধিনায়ককে। অনেকে এটাও দাবি করেন যে অন্যায় করা হয়েছে শ্রেয়াসের সঙ্গে। সবমিলিয়ে, এই সিদ্ধান্ত অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।
এবার এই ব্যাপারে নিজের মুখ খুললেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন তারকা মহাম্মদ কাইফ। বোর্ডের এমন ভুল সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। কাইফ বলেন, “সাই সুদর্শন একজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার, এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আইপিএলের পারফরমেন্সের ভিত্তিতেই ওকে ভারতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শ্রেয়াস আইয়ারও কিন্তু বেশ ভালো ফর্মে রয়েছে। গত ওডিআই বিশ্বকাপে পাঁচশোর বেশি রান পেয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভালো পারফর্ম করেছে। এবারের আইপিএলে ৫১৪ রান করেছে ও। এর সঙ্গে পাঞ্জাব কিংসকেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। একজনকে দলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে সাদা বলের ক্রিকেটে পারফরমেন্সের ভিত্তিতে আর আরেকজনকে নয়। কোন মানে নেই এই দ্বিচারিতার।”
