দেবজিৎ মুখার্জি: রায়পুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত হারলেও চর্চার শীর্ষে রয়েছেন দলের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি। পরপর সেঞ্চুরি করে তিনি ফের দেখিয়ে দিয়েছেন যে কেন ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে তাঁকে দলে সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে এর সঙ্গে দলের বহু প্রাক্তন তারকা আবার নাম না করে একহাত নিয়েছেন গম্ভীর-আগারকারদের। শুধু প্রাক্তন তারকারাই নন, সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলিতেও যেমন সকলের বিরাটের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন, তেমনি তীব্র সমালোচনা করেছেন গৌতম গম্ভীর ও অজিত আগারকারের।
প্রাক্তন তারকা হারভাজন সিং অজিত আগারকারের জন্মদিনে তাঁর নাম না নিয়েই তাঁকে কটাক্ষ করেন। বলতে গেলে, যে মন্তব্য তিনি করেছেন, তার থেকে এটা স্পষ্ট যে তিনি আগারকারের উদ্দেশ্যেই এমনটি বলেছেন। কী বলেছেন ভাজ্জি? প্রাক্তন তারকা বলেন, “আমি অত্যন্ত খুশি এটা দেখে যে বিরাট কোহলির মতো একজন ক্রিকেটার খেলে যাচ্ছে। কিন্তু এটা দেখে খারাপ লাগে যে যারা নিজেরা কিছু পারেনি, তারা বিরাটের ভবিষ্যৎ ঠিক করছে। এটা আমার ও আমার অনেক সতীর্থদেরও সঙ্গে হয়েছে। বেশিরভাগ সময়ে তারাই তারকা ক্রিকেটারদের যোগ্যতা বিচার করে, যারা কম পেয়েছে অপেক্ষাকৃত।”
অন্যদিকে, আবার বড় মন্তব্য করে বসেন দলের আরেক প্রাক্তন তারকা, তথা দলে প্রাক্তন হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। তবে শুধু বিরাটকে নিয়ে একা নন, রোহিত শর্মারও প্রশংসা করেছেন তিনি। কী বলেছেন শাস্ত্রী? প্রাক্তন ক্রিকেটারের দাবি করেন যে যাঁরা দুই তারকার সমালোচনা করছেন, তাঁরা গায়েব হয়ে যাবেন যদি দুজনে খেলা দেখানো শুরু করেন। তিনি বলেন, “বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা, দুজনেই ওডিআই জায়েন্ট। ওদের মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে লাগবেন না। আমি এটাই বলব যে কিছু লোক এটা করছে। দুজনেই যদি খেলা দেখানো শুরু করে, তাহলে যারা লাগছিল, তারা গায়েব হয়ে যাবে।”
এছাড়া মতামত জানিয়েছেন দলের প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে তিনি এই ব্যাপারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বরাবরই কঠিন সত্য বলা থেকে পিছিয়ে আসেন না প্রাক্তন তারকা। এবারও তা হয়নি। কিং কোহলির বয়স নিয়ে যে দীর্ঘদিন ধরে কথা হচ্ছিল, সেই ব্যাপারটিও টেনে আনেন এবং দাবি করেন যে ৩৭ বছর বয়সেও বিরাট কোহলি অত্যন্ত ফিট। ইরফান বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় দুটো ডাক দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী তিনটি ইনিংসে অন্তত অর্ধশতরন করেছে। এখানকার চ্যালেঞ্জটা আলাদা। ও বুঝতে পেরেছে এখানকার পিচটা সামান্য আলাদা এবং সতর্কতার সঙ্গে খেলেছে। যখন বোলাররা নিজেদের গেমপ্ল্যান চেঞ্জ করে তখন, বিরাটও নতুন গেমপ্ল্যান নিয়ে আসে। শতরান করলে বা উইকেট পড়লে, ও যেভাবে সেলিব্রেট করে, তার থেকে বোঝা যায় হি ইজ ব্যাক, যা টিম ইন্ডিয়ার জন্য ভালো বিষয়।”

