দেবজিৎ মুখার্জি: চেতেশ্বর পূজারার পরিবারে দুঃসংবাদের কালো ছায়া! কী কারণে? না ফেরার দেশে প্রাক্তন ভারতীয় তারকার শ্যালক। ঘটনাটি কী? আত্মঘাতী হন প্রাক্তন টেস্ট তারকার শ্যালক জিত পাবরি। কী কারণে আত্মহত্যা করলেন তিনি? পরিবারের সদস্যদের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার সকালে এই দুঃসংবাদটি আসে। তবে তখনও প্রাক্তন তারকা কমেন্ট্রি করছিলেন ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। তবে মনে করা হচ্ছে যে জিতের আত্মহত্যা করার পেছনে হাত রয়েছে এক ধর্ষণের অভিযোগের। তবে দিনের শেষে ঘটনাকে ঘিরে গোটা পরিবারের উপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে নিজের বাড়িতেই বুধবার সকালে জিত পাবরি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন গলায় ফাঁস লাগিয়ে। শব্দ শুনে তৎক্ষণাৎ প্রতিবেশীরা পূজারার শ্যালককে হাসপাতালে নিয়ে যান উদ্ধার করে। তবে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তিনি মারা গিয়েছে বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের সকল সদস্য বেশ ভেঙ্গে পড়েছেন এই ঘটনার পর। তবে আত্মহত্যা সংক্রান্ত কোনো চিঠি হাতে লাগেনি পুলিশের। মালব্যনগর থানার পুলিশ আধিকারিকরাও তাঁদের সঙ্গে তেমনভাবে কথা বলতে পারেননি। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং রুজু করা হয়েছে আত্মহত্যার মামলা।
তদন্ত নেমে পুলিশ জানতে পারে যে গত বছর ২৬ নভেম্বর ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল জিত পাবরির বিরুদ্ধে তাঁর প্রাক্তন বাগদত্তার তরফ থেকে। দায়ের করা হয়েছিল মামলা। অভিযোগকারীনির অভিযোগ, জিত তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন এবং বিনা কারণে ভেঙে দিয়েছেন বাগদান। শুধু তাই নয়, মৃত জিৎ নাকি মারধর পর্যন্ত করেছিলেন তাঁকে। এমনকি মহিলাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল পূজারার নাম টেনে। যদিও জিৎ আগাম জামিন পেয়েছিলেন মামলায়। তবে বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি ভুগছিলেন মানসিক অবসাদে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা যে আইনি জটিলতা ও সম্মানহানি হওয়ার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
যদিও আত্মহত্যা করার পেছনে অন্যকোনো কারণ রয়েছে কিনা, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের তরফ থেকে। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন ভারতীয় তারকার মৃত শ্যালকের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা ছিল। কিন্তু এই পর্যন্ত পুলিশের হাতে এমন কোন তথ্য বা প্রমাণ লাগেনি, যার থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনি ব্যবসায়িক লোকসান ও আর্থিক সমস্যার কারণে প্রাণ দিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো কারণ জানানো হয়নি পুলিশের তরফ থেকে। এবার দেখার বিষয় যে আগামীদিনে তদন্ত করে আর কি তথ্য হাতে লাগে পুলিশের।

