মাঠে ঢুকে বিরাটকে ছুঁয়ে শাস্তি, তবুও খুশি সৌভিকের পরিবার সহ গোটা গ্রাম

মাঠে ঢুকে বিরাটকে ছুঁয়ে শাস্তি, তবুও খুশি সৌভিকের পরিবার সহ গোটা গ্রাম

দেবজিৎ মুখার্জি, হুগলি: ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ও সেই খেলার রাজা বিরাট কোহলির প্রতি ভক্তি, এই দুটি জিনিস যদি কোন ক্রিকেটপ্রেমীর মধ্যে গাঢ়ভাবে থেকে থাকে, তাহলে তাঁকে রোখা প্রায় একপ্রকার অসম্ভব হয়ে ওঠে। তার বড় উদাহরণ পুড়শুড়ার বাসিন্দা সৌভিক। বিরাট কোহলি রাঁচিতে সেঞ্চুরি করার পর তিনি মাঠে ঢুকে কিং কোহলির পায়ে লুটিয়ে পড়েন। যদিও এই মুহূর্তে তিনি পুলিশি হেফাজতে ঠিকই। তবে তাঁর পরিবারের বিন্ধুমাত্র চিন্তা নেই এর জন্য। বরং এটা ভেবে গর্বিত তাঁরা যে তাঁদের পুত্র বিরাটকে ছুঁতে পেরেছেন। শুধু তাই নয়, গর্বিত গোটা আরামবাগের মধুপুর আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দারাও।

সৌভিক কেশবপুর কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম মহাবিদ্যালয়ের বিএ ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। তাঁর বাবা সমর মুর্মু পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক এবং মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। সমরবাবু জানান বিরাটের প্রতি ছেলের ভালবাসা কতটা। তিনি বলেন, “সৌভিক ছোটবেলা থেকেই বিরাট কোহলির ফ্যান। ও ছোটবেলা থেকেই আমাকে বলতো যে যদি পড়াশোনা ছাড়তে হয়, ছাড়বো। কিন্তু একবার কাছ থেকে ছোঁবে বিরাট কোহলিকে।” ছেলে যে এই মুহূর্তে পুলিশি হেফাজতে, সেই প্রসঙ্গ উঠলে সমরবাবু বলেন, “আমি জানি আমার ছেলে আইন ভেঙেছে। কিন্তু এটা ভেবে গর্ব হচ্ছে যে ও ছুঁতে পেরেছে বিরাট কোহলিকে।”

প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ঘটে যখন বিরাট কোহলি মার্কো জ্যানসেনের বলে বাউন্ডারি হাকিয়ে শতরান করেন। তখন মাঠে নিরাপত্তা কর্মীদের এড়িয়ে ঢুকে পড়েন সৌভিক এবং লুটিয়ে পড়েন কিং কোহলির পায়। যদিও এরপর উপস্থিত সকল নিরাপত্তা কর্মী সৌভিককে সরিয়ে নিয়ে যান সেখান থেকে এবং এই মুহূর্তে তিনি রয়েছেন পুলিশি হেফাজতে। পরিবারের তরফ থেকেও স্থানীয় বিধায়ককে এই ব্যাপারে জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে যাবতীয় সব চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা যায়।

উল্লেখ্য, ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৮ রানে জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে করে ৮ উইকেটে ৩৪৯। বিরাট কোহলি করেন ১৩৫। এছাড়া রোহিত শর্মা করেন ৫৭ এবং অধিনায়ক কেএল রাহুলের ব্যাট থেকে ৬০ রানের এক আগ্রাসী ইনিংস। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্রুত উইকেট হারালেও পরের দিকে একাধিক বড় পার্টনারশিপ গড়ে এবং একসময়ে জয় পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৩২ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। ১৮ রানে ম্যাচ যেতে ভারত। প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ হন বিরাট কোহলি।

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *