দেবজিৎ মুখার্জি: এই মুহূর্তে দেশের ক্রিকেটমহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে জায়গা দেওয়া। এমনটা হওয়ায় ক্ষোভের মুখে পড়েছেন দলের মালিক, তথা বলিউডের বাদশা, শাহরুখ খান। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি নেতা তাঁকে ঘুরিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, যা ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। তবে শুধু তিনি একা নন, শাহরুখকে নিন্দা ও রোষের মুখে পড়তে হয়েছে আরো অনেকের।
উদ্ভব ঠাকরের শিবসেনার এক নেতা বলেছেন, “শাহরুখ খান সমস্ত সম্মান হারাবেন যদি উনি বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে খেলান। কোনভাবেই ওই বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আমরা খেলতে দেবো না।” দলের মুখপাত্র আনন্দ দুবে দাবি করেছেন যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হবে সেই অর্থ যদি আইপিএলে খেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে চিত্রকূটের ধর্মগুরু জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য বলেন, “ও হিরো বলে মনে করে নিজেকে। তাই ও এটাই করবে। ওর অবস্থান বহুদিন ধরেই দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। কোনও চরিত্রই নেই ওর। প্রশ্ন ওঠানো উচিত ওর ব্যক্তিত্ব নিয়ে। ও তো দেশদ্রোহী।” অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভার আগ্রার জেলা সভাপতি মীরা রাঠোরের বক্তব্য, “আজ আমি জুতোপেটা করেছি ওঁর মুখে কালি মাখিয়ে। কাউকে ছেড়ে কথা বলব না আমরা আমাদের ভাইদের সঙ্গে এমনটা হলে। অন্যায় হচ্ছে আমাদের ভাইদের সঙ্গে। ১ লক্ষ টাকার নগদ পুরস্কার দেব যে ওঁর জিভ কেটে এনে দেবে আমাদের।”
যদিও এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতা মাণিকম ঠাকুর অবশ্য শাহরুখ খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে দেশের বহুত্ববাদে আক্রমণ কিং খানের মতো একজন সুপারস্টারকে বেইমান বলার মানে। পাশাপাশি, আরএসএসকে একহাত নিয়ে তিনি এটাও দাবি করেছেন যে ঘৃণা কখনো জাতীয়তাবাদ হতে পারে না এবং এভাবে সমাজে তারা বিষ ছড়াচ্ছে। আশ্চর্যকরভাবে বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীও কিং খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তবে এর সঙ্গে এটাও দাবি করেছেন যে হিন্দুদের দুর্দশা নিয়ে বলতে হবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদেরও।
বিসিসিআইয়ের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র অবশ্য জানিয়েছেন, “বোর্ড কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না এই ইস্যুতে। কারণ তাদের হাতে নেই এই বিষয়টা। সরকারের তরফ থেকে এমন কোনও নির্দেশিকা আসেনি যে আইপিএল খেলতে পারবে না বাংলাদেশিরা। তাই এই নিয়ে এখনই কিছু বলা আর সম্ভব নয় বোর্ডের পক্ষে।” এবার দেখার বিষয় যে শাহরুখের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই জল কতদূর গড়ায়। কোথায় হবে এর ইতি? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

