দেবজিৎ মুখার্জি: দরজা খটকাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগ আইপিএল। শীঘ্রই টুর্নামেন্ট শুরু হবে জেনে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ দিনদিন বেড়েই চলেছে। দলগুলিও নিজেদের ঘর গুছিয়ে ফেলেছে। কোন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে তারা মাঠে নামবে, তা নিয়ে মাথা লাগাচ্ছে সকলে। পাশাপাশি, ক্রিকেটাররাও পরবর্তী টি২০ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে মন দিয়ে প্র্যাকটিস করছে। বলা যায়, দর্শকদের উন্মাদনা যেমনি জড়িয়ে রয়েছে, তেমনি খেলোয়াড়দের উত্তেজনাও জড়িয়ে রয়েছে টুর্নামেন্টের সঙ্গে।
তবে আজ আমরা এই প্রতিবেদনে কথা বলবো সেই দলটিকে নিয়ে যারা প্রতিবছর এক শক্তিশালী কোর টিম তৈরি করা সত্ত্বেও ট্রফি জিততে পারেনা। এখানেই শেষ নয়, বহুবার জয়ের দোরগোড়ায় এসেও পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তাদের। তবে এই দলটি হার মানতে নারাজ। কারণ এদের কাছে রয়েছে সেই অস্ত্র, যা রীতিমতো এক আতঙ্ক বহু দলের কাছে। তিনি আর কেউ নন, তিনি টিম ইন্ডিয়ার মডার্ন ডে চেজ মাস্টার বিরাট কোহলি।
‘এ বাংলার মুখ’ এই প্রতিবেদনে কথা বলবে আরসিবি, ওরফে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে নিয়ে। দলটি তারকা ক্রিকেটার সমৃদ্ধ হওয়া সত্বেও কোন না কোনভাবে তাল কাটে এবং এর ফলে ম্যাচ হারতে হয় তাদের। এর আগে একাধিকবার তারা ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু ট্রফি নিজেদের ঝুলিতে তুলতে সফল হয়নি। কিন্তু তারা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল গতবারের আইপিএলে। যেভাবে লাগাতার ম্যাচের পর ম্যাচ হারছিল তারা, তাতে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে বিরাট কোহলিরা প্লে-অফে উঠতে পারবেনা। কিন্তু এরপরই দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। পরপর জয় পেয়ে প্লে-অফের টিকিট পাকা করে নেয় তারা। যদিও শেষে পরিশ্রম জলে যায়। সেই মোমেন্টাম কাজে লাগাতে না পারায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা।
এবার আমরা কথা বলবো আরসিবির শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে। দেখে নেওয়া যাক এই বছর তাদের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা আইপিএল জেতার। এই মুহূর্তে দলের প্রধান শক্তি তাদের ব্যাটিং অর্ডার। একদিকে যেমন রয়েছেন বিরাট কোহলি, তেমনি রয়েছেন ফিল সল্ট, রজত পতিদার, দেবদত্ত পাদিক্কালের মতো ক্রিকেটাররা। এছাড়া নিচের দিকে নেমে বল ভালই বাউন্ডারি পার করাতে পারেন লিয়াম লিভিংস্টোন ও ক্রুনাল পান্ডিয়ার মতো ব্যাটাররা। দুজনের মধ্যে কেউ খেলতে না পারলে টিম ডেভিডকে প্লেইং একাদশে জায়গা দেওয়া দেওয়া যেতে পারে। এক কথায় বলতে গেলে ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা নেই দলের।
তবে দলের প্রধান চিন্তার কারণ হচ্ছে বোলিং বিভাগ। গতবছর বল হাতে মোটামুটি ভালোই পারফর্ম করেছিলেন যশ দয়াল। বিশেষ করে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ক্রাঞ্চ গেমে যেভাবে তিনি শেষ ওভারে রান ডিফেন্ড করেছিলেন, তা সকলকে মুগ্ধ করেছিল। তবে সমস্যার বিষয় এটাই যে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ থেকে দলে এসেছেন ভুবনেশ্বর কুমার, যিনি গত কয়েকটি মরশুমে একেবারেই দাগ কাটতে সফল হননি। পাশাপাশি, দলের চিন্তা বাড়াচ্ছে জস হ্যাজেলউডের ফিটনেস। এছাড়াও স্পেশালিস্ট স্পিনার বলতে মাত্র একজন এবং সেটি সুয়শ শর্মা। সবমিলিয়ে, চাপে ফেলছে বোলিং বিভাগ। সেক্ষেত্রে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে আরসিবিকে ম্যাচ জিততে হলে রান তাড়া করার উপর বেশি নজর দিতে হবে। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে ৫০-৫০ সম্ভাবনা রয়েছে দলের ট্রফি জেতার। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত খড়া কাটে কিনা।
