দেবজিৎ মুখার্জি: বড় বিপাকে ঋষভ পান্থ নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ক্রিকেট দল! পরাজয়ের পথে তারা গুয়াহাটি টেস্টে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৮৯ রানের জবাবে ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হয় অত্যন্ত কম রানে। শুধু তাই নয়, ফলোয়ন দেওয়ার পরিবর্তে ব্যাট করতে নেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা একটিও উইকেট হারায়নি এবং সেক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে যে আগামীকাল বড়সড় রান করে ইনিংস ঘোষণা করবে এবং সেটা যদি হয়, তাহলে টিম ইন্ডিয়া যে চাপে পড়বে, তা না বললেও চলে।
সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ছিল গুয়াহাটি টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা। বিনা উইকেটে ৯ রান নিয়ে খেলতে নামে ভারত। একটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়তে শুরু করেন দলের দুই ওপেনার যশস্বী জয়েসওয়াল ও কেএল রাহুল। বেশ ধৈর্য ও বুদ্ধির সঙ্গেই খেলছিলেন দুই ক্রিকেটার। তবে ২২ ওভার চলাকালীন ২২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান রাহুল। অর্ধশতরানের গন্ডি পেরিয়ে কিছুক্ষণ পর প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া হয় জয়েসওয়ালকেও। এরপরই নামতে শুরু করে ধ্বস। ১২২ রানের মধ্যে ৭টি উইকেট হারিয়ে ফেলে দল।
এরপর যদিও কুলদীপ যাদবকে নিয়ে কিছুক্ষণের জন্য একটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়েন দলের অন্যতম তরুণ তারকা স্পিনার অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর। তবে সেই মোমেন্টাম বেশি দূর নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ৪৮ রান করে আউট হন সুন্দর এবং তার কিছুক্ষণ পরই আউট হন কুলদীপ। অবশেষে কোনভাবে দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান দলের দুই তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ ও মহাম্মদ সিরাজ। এদিন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ছটি উইকেট নিজের ঝুলিতে তোলেন মার্কো ইয়ানসেন। এছাড়া তিনটি উইকেট তোলেন হার্মার এবং একটি মহারাজ।
তবে ফলোয়ন দেওয়ার পরিবর্তে ফের ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দিনের শেষে তাদের স্কোর বিনা উইকেটে ২৬। অর্থাৎ এই মুহূর্তে তারা এগিয়ে ৩১৪ রানে। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস। আরো বড় প্রশ্ন এটাই যে এই ম্যাচের ফলাফল কি হবে। ভারত কি জিতবে নাকি ম্যাচ ড্র হয়ে সিরিজ নিজেদের ঝুলিতে তুলে নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে গোটা ক্রিকেটমহলে। এবার দেখার বিষয় যে আগামীকাল কোন পথে এগোয়ে এই ম্যাচ।
