নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ দিয়ে জবাব দেওয়া আজও মনে রেখেছে ভারত-পাকিস্তান সহ গোটা বিশ্ব। এমনিতেই দুই দেশ একে অপরের চিরশত্রু, কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে তাদের সম্পর্ক আরো খারাপ হয়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খেলাতেও। ক্রিকেটের ময়দানে যতবারই দুই দেশের সিনিয়র দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে, ততবারই পরাজিত হয়েছে পাকিস্তান।
সত্যি বলতে, পাকিস্তান যেন এখনো ভুলে উঠতে পারেনি গত এশিয়া কাপের পরাজয়টি। শুরুতে যেভাবে আক্রমণ এনেছিল ভারতের উপর, তাতে অনেকেরই ধারণা হয়েছিল যে ম্যাচ ও ট্রফি পাকিস্তানের ঝুলিতে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বরং তিলক বর্মার বুদ্ধিমান ও ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের উপর ভর করে ম্যাচ ও ট্রফি দুটোই নিজেদের নামে করে নিতে সফল হয় টিম ইন্ডিয়া।
তবে বড়রা যা করে দেখাতে পারেননি, তা করে দেখিয়েছেন পাকিস্তানের যুব ক্রিকেটাররা। অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে তাঁরা হারায় ভারতকে। তবে শুধু জয় নয়, একেবারে বড় ব্যবধানে জয় পায় তারা। প্রথমে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে বিশাল রান তোলে পাকিস্তানের যুবক ক্রিকেটাররা। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে, তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৪৭। জবাবের রান তাড়া করতে নেমে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯এর ক্রিকেটাররা ৩০ ওভারও টিকতে পারেনি। ২৭ ওভার চলাকালীন অলআউট হয়ে যায় গোটা দল ১৫৬ রানে। অর্থাৎ ১৯১ রানের ম্যাচ জিতে ট্রফি নিজেদের নামে করতে সফল হয় পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯।
দেশে ফিরতেই তাদের আলাদাভাবে স্বাগত জানানো হয়। ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের বাইরে যেন একেবারে উৎসবের মতো পরিবেশ। পরে আবার দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে দেখা করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরীফ। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দলের মেন্টর সারফারাজ আহমেদ এবং জানান যে পাক প্রধানমন্ত্রী সকল ক্রিকেটারকে ১০ মিলিয়ন পাকিস্তানি টাকা পুরস্কার দেবেন, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা।
যদিও সারফারাজ ভক্তরা আবার তাঁর পদোন্নতির দাবি তুলেছেন। কারণ ২০১৭ সালে তাঁর নেতৃত্বেই পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল ভারতকে ফাইনালে হারিয়ে। এরপর আর কোন আইসিসি ট্রফি নিজেদের নামে করতে পারেনি পাকিস্তান। তবে তাঁর মেন্টরশিপে এবার দেশের যুব ক্রিকেটাররা পরাজিত করেছে ভারতের যুব ক্রিকেটারদের। তাই অনেকে তাঁকে সিনিয়র দলের মাথাতে বসানোর দাবি তুলেছেন।

