দেবজিৎ মুখার্জি: “কোচের আচরণ সকলের সঙ্গে সমান” আইপিএল ফাইনালের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পন্টিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাঞ্জাব কিংস অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তিনি জানান যে কোচের আচরণ সকলের সঙ্গে সমান হলে ক্রিকেটাররা কমফোর্টেবল ফিল করে এবং মানসিকতা পজেটিভ হয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়, তিনি এটাও পরিষ্কার করে দেন যে এর প্রভাব পড়ে খেলাতেও। শ্রেয়াস জানান যে মাঠে স্বাধীনভাবে খেলা যায়। বহু ক্রিকেটপ্রেমী মনে করছেন যে এই মন্তব্যে তিনি পন্টিংয়ের প্রশংসার পাশাপাশি নাম না নিয়ে গম্ভীরকে খোঁচা দিলেন।
আইপিএলের পরেই ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। শুভমান গিলের নেতৃত্বে এক তরুণ ব্রিগেড নামবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তবে একদিকে যখন ভালো পারফরমেন্সের ফল পেয়েছেন সাই সুদর্শনের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা, ঠিক তখন অন্যদিকে চলতি আইপিএলে ব্যাট হাতে ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও সিরিজে সুযোগ পাননি শ্রেয়াস আইয়ার। তা দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন আইয়ারের বাদ পড়ায়। অনেকে আবার মনে করছেন যে এই বাদ পড়ায় হাত রয়েছে দলের বর্তমান হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের।
তবে সিরিজ থেকে বাদ পড়া সত্বেও ব্যাট কথা বলা থামায়নি শ্রেয়াসের। চলতি আইপিএলে অব্যাহত রয়েছে তাঁর দাপট। একের পর এক দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো ইনিংস খেলে গেছেন তিনি। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রোহিত শর্মাদের দেওয়া পাহাড় সমান টার্গেট পাঞ্জাব শ্রেয়াসের বিধ্বংসী ইনিংসের মাধ্যমে তাড়া করতে সফল হয়। ৪১ বলে ৮৭ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁকেই ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার দেওয়া হয়। সেখানে তিনি নিজের অবস্থান জানান ইনিংস ও দলের জয় প্রসঙ্গে, যা মুগ্ধ করেছে সকল ক্রিকেটপ্রেমীকে।
গভীর রাতে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সকালে সাংবাদিক বৈঠক করেন শ্রেয়াস। কথায় কথায় সেখানে প্রসঙ্গ ওঠে দলের হেড কোচ রিকি পন্টিংকে নিয়ে। সেই ব্যাপারে আইয়ার বলেন, “উনি দুর্দান্ত কোচ। কোন খুঁত নেই ওনার দল সামলানোতে। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে ওনার সবচেয়ে ভালো জিনিষ সেটাই যে উনি সকলের সঙ্গে সমানভাবে আচরণ করেন, যেটা সকল ক্রিকেটারকে এনকারেজ করে, সে সিনিয়র হোক কি জুনিয়র। যখন তুমি জানো যে তোমার কোচ সকলকে সমান চোখে দেখে, তখন তোমার মানসিকতা পজিটিভ হয়ে যায়। সেই প্রভাব খেলাতেও পারে এবং স্বাধীনভাবে খেলা যায়।”
আইয়ারের এমন মন্তব্য শুনে বহু ক্রিকেটপ্রেমী মনে করছেন যে ইংল্যান্ড সিরিজে বাদ পড়ার পর তিনি এই কথার মাধ্যমে, নাম না নিয়ে, একপ্রকার খোঁচা দিলেন টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান হেড কোচ গৌতম গম্ভীরকে। অনেকে এটা মনে করছেন যে যদি এমনটা তিনি করেও থাকেন, তাহলে ঠিক করেছেন। আবার কিছু ক্রিকেটপ্রেমী এটাও মনে করছেন যে নিজের পারফরমেন্সের মাধ্যমে শ্রেয়াস জাতীয় দলে ফিরে আসবেন এবং সকল নিন্দুককে যোগ্য জবাব দেবেন। এবার দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাব নিজেদের প্রথম আইপিএল ট্রফি জিততে পারে কিনা।
