দেবজিৎ মুখার্জি: দূষণের আরেক নাম হয়ে উঠেছে দেশের রাজধানী দিল্লি। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি চিন্তায় ফেলেছে সেই রাজ্যের বাসিন্দাদের থেকে শুরু করে গোটা ভারতবর্ষকে। বিশেষ করে প্রতিবছর শীতকাল এলে সেই চিন্তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। গোটা রাজধানী মুড়ে যায় দূষণের চাদরে। এবার এই বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার, তথা ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফিল্ডার, জন্টি রোডস। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন যে এই দূষণ একনাগাড়ে অসহ্য হয়ে উঠছে।
কী বক্তব্য প্রাক্তন প্রোটিয়া তারকার? রবিবার প্রাক্তন ক্রিকেটারের বিমান নেমেছিল দিল্লি বিমানবন্দরে। সেখানকার এক ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “রাঁচি যাচ্ছিলাম আজ দিল্লি হয়ে। প্রতিবারের মতো এবারও খুব কঠিন সহ্য করা দিল্লির বায়ুদূষণের মাত্রা। আমি অবশ্য কৃতজ্ঞ দক্ষিণ গোয়ার এক ছোট্ট জেলেদের গ্রামে থাকতে পেরে।” প্রাক্তন তারকার এই পোস্ট ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে এবং তা নজরে আসতেই কমেন্ট করা শুরু করেন নেটিজেনরা। অধিকাংশই তাঁর সঙ্গে সহমত হয়েছেন এই ব্যাপারে এবং দাবি করেছেন যে একেবারে ঠিক কথা বলেছেন জন্টি রোডস। বলে রাখা ভালো, বরাবরই ভারতের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন তারকা। এখানেই শেষ নয়, নিজের মেয়ের নাম ইন্ডিয়া পর্যন্ত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, দীপাবলির পর থেকেই চেহারা পাল্টায় দিল্লির। একেবারে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। সেই রাজ্যের সরকারের তরফ থেকে ‘ক্লাউড সিডিং’এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে যে পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছিল, তা হয়নি বললেই চলে। এখনো অব্যাহত সেখানে দমবন্ধ অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে দিনে ৭টার বেশি সিগারেট খেলে যতটা ক্ষতি হয়, এই মুহূর্তে দিল্লির বাতাসে শ্বাস নিলে, ততটাই ক্ষতি হবে। বলে রাখা ভালো, ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ’এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৩ সালে যতগুলি মৃত্যু হয়েছে রাজধানীতে, তার ১৫ শতাংশ হয়েছে দূষণের কারণে। অর্থাৎ প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছেন দূষণে।

