নিউজ ডেস্ক: ইসলামাবাদে হওয়া বিস্ফোরণের আঁচ পড়ল ক্রিকেটে। এই ঘটনার জেরে এতটাই আতঙ্কিত হয়েছেন যে বুধবার শ্রীলংকার ৮ জন ক্রিকেটার সেখানে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এমন পরিস্থিতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় শ্রীলংকা বোর্ডের তরফ থেকে। কী সেই হুঁশিয়ারি? তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাঁদের বিরুদ্ধে, যাঁরা দেশে ফিরে আসবেন। বোর্ডের এমন নির্দেশিকাকে স্বাগত জানানো হয়েছে পাকিস্তান বোর্ডের চেয়ারম্যান, তথা সেই দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী, মহসিন নকভির তরফ থেকে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার থেকে। ভয়াবহ বিস্ফোরণের সাক্ষী হয় ইসলামাবাদ সহ গোটা পাকিস্তান। আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয় ইসলামাবাদ আদালতের সামনে এবং তাতে প্রাণ হারান একাধিক ব্যক্তি। সেই সংখ্যা ১২ বলে শেষ খবর। শুধু তাই নয়, আহতের সংখ্যাও অনেক। সেই সংখ্যা ২৭ বলে শেষ খবর। গোটা ঘটনা নিয়ে বেশ চিন্তায় পাক সরকার সহ গোটা পাকিস্তান। এখানেই শেষ নয়, তা দেখে রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন সেখানকার নাগরিকরাও। এক কথায় বলতে গেলে, ভয়ের কালো ছায়া নেমে এসেছে গোটা পাকিস্তানের উপর।
তা দেখেই চিন্তায় পড়েছেন শ্রীলংকার ক্রিকেটাররাও। তার কারণ ইসলামাবাদ থেকে রাওয়ালপিন্ডি খুব একটা বেশি দূরে নয়। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার চলতি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ম্যাচটি খেলা হবে শুক্রবার। অন্যদিকে তৃতীয় ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল ১৫ তারিখে। তার পরিবর্তে তা হবে ১৬ তারিখে। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার শ্রীলংকা বোর্ডের তরফ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে নির্দেশ উপেক্ষা করে যদি কোনও ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফ দেশে ফিরে আসেন, তাহলে বিকল্প কাউকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে পাকিস্তানে এবং গোটা বিষয়টি তদন্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে সেই ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে শ্রীলংকা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তান বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। কী বক্তব্য তাঁর? সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “শ্রীলংকা দলকে ধন্যবাদ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান সফর। দুই দেশের মধ্যে বাকি দুটি ম্যাচ হবে ১৪ এবং ১৬ নভেম্বর।” জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পাক বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছেন শ্রীলংকার হাই কমিশনার এবং তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে। পাকিস্তানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে শ্রীলংকার জন্য এবং নিরাপত্তার জন্য কাজে লাগানো হয়েছে সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীকে।
