দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: ফের বিনোদন জগতে নামলো শোকের ছায়া। চরম দুঃখের সংবাদ টলিপাড়ায়। না ফেরার দেশে চলে গেলেন আরও এক বর্ষিয়ান অভিনেত্রী। কে তিনি? তাঁর নাম ভদ্রা বসু। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়? গভীর রাতেই প্রবীণ অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই খবর জানাজানি হতেই যেমন দুঃখ পেয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা, তেমনি শোকাহত হয়েছেন তাঁর ভক্তরাও। সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করা হয়েছে তাঁর প্রয়াণকে কেন্দ্র করে।
পরিবার সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে কিছুদিন আগে ভদ্রা বসুর গলব্লাডারে স্টোন ধরা পড়েছিল। তখন অতিরিক্ত রক্তচাপের পাশাপাশি কিছু সমস্যা ছিল হৃদযন্ত্রে, যেই কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনি অস্ত্রোপচার করা। সুতরাং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছিল ওষুধের দ্বারা। তবে আচমকা ঘরে পড়ে গিয়ে তিনি চোট পান মস্তিষ্কে এবং তাঁকে ভর্তি করা হয় এক বেসরকারি হাসপাতালে এবং এরপর নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচার হয় মস্তিষ্কের। পাশাপাশি, জটিল অস্ত্রোপচার হয় বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সে। এরই মাঝে আবার সমস্যা দেখা দেয় কিডনির। তবে অসুস্থতার সঙ্গে সমস্ত লড়াই শেষ হয়ে যায় শুক্রবার রাতে। পরলোকগমন করেন তিনি।
ভদ্রা বসুর মৃত্যুর সংবাদ জনসম্মুখে আসতেই শোকপ্রকাশ করতে শুরু করেন তাঁর ভক্তরা। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে এই সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট দেখা যায়। অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “কেউ তো আর বলবে না পাকামি করিস না, মূলে দেবো কানটা।” অন্যদিকে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমি মনের দিক দিয়ে এক কিশোরী সহ অভিনেত্রীকে হারালাম। আমরা হারালাম অন্যতম শক্তিশালী এক অভিনেত্রীকে। ভদ্রা দি।”
বলে রাখা ভালো, প্রয়াত ভদ্রা বসু বিশিষ্ট নাট্য নির্দেশক, তথা অভিনেতা, অসিত বসুর জায়া। বর্তমানে তিনি বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁকে দেখা গিয়েছে সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ ও অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বেলা’তে। পাশাপাশি বেশকিছু জনপ্রিয় নাটকের পরিচালনাও করেছেন তিনি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ ‘গওহরজান’। তাঁর দুই মেয়ে দামিনী ও আনন্দী বসু ধারাবাহিকভাবে অভিনয় করেন মঞ্চে।

