দেবজিৎ মুখার্জি: ইডেন টেস্টে ভারতের পরাজয় যেন কেউ মেনে নিতে পারছেন না। ৮ থেকে ৮০ সকলেই বেশ হতাশ হয়েছেন দলের এমন বিশ্রী পারফরমেন্সে। বলা ভালো, সকলেই আশা করেছিলেন যে সহজে ম্যাচ নিজেদের ঝুলিতে তুলবে ‘মেন ইন ব্লু’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বরং হয়েছে উল্টোটা। একেবারে লজ্জাজনক পরাজয় বলতে যা বোঝায়, ঠিক সেটারই সাক্ষী হয়েছে দেশের ক্রিকেটমহল। তা দেখে ক্রিকেটপ্রেমীদের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ দেশের প্রাক্তন তারকারাও। সকলেই এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
প্রাক্তন ভারতীয় তারকা চেতেশ্বর পূজারার বক্তব্য, “কোন লাভ নেই এসব ট্রানজিশন ইত্যাদি বলে। আমি বিশ্বাস করি না যে ঘরের মাঠে টিম ইন্ডিয়া হেরেছে ট্রানজিশনের কারণে। তবুও মানা যায় যদি এর কারনে তুমি অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডে গিয়ে হারো। কিন্তু এই অজুহাত ঘরের মাঠের ক্ষেত্রে চলে না।” এর সঙ্গে তরুণ ব্রিগেডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে এই দলটার মধ্যে। যশস্বী জয়েসওয়াল, কেএল রাহুল, শুভমান গিল, ওয়াশিংটন সুন্দর, সকলেরই দারুণ রেকর্ড ঘরোয়া ক্রিকেটের। তারপরও ঘরের মাঠে পরাজয় মানে ভুল কিছু না কিছু একটা হচ্ছে। ঠিকঠাক মোটেই হচ্ছে না সব।”
অন্যদিকে মহম্মদ কাইফের মতে, নিজেদের জায়গা টিকিয়ে রাখার জন্য ভয়ে ভয়ে খেলছেন ভারতীয় ব্যাটাররা। তাঁর দাবি, “যেই নামুক না কেন খেলতে, তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে যে কেউ নেই তাঁদের পাশে। সকলেই ভয়ে ভয়ে খেলছেন, যেন তাঁদের সমর্থন করা হচ্ছে না দলের তরফ থেকে। কেউ খেলছে না সাহস নিয়ে ও স্বাধীনভাবে।” পাশাপাশি তিনি এটাও মনে করেন যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে দলের মধ্যে। প্রাক্তন ভারতীয় তারকার মতে, “১০০ রান করেও নিশ্চিত নয় সারফারাজ খানের জায়গা। শতরান করার পরও জায়গা হয় না তার দলে। ৮৭ রান করেছে সাই সুদর্শন। কিন্তু খেলানো হলো না পরের টেস্টে। আমার মনে হয় বহু ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে এই দলে।”
সমালোচনা করতে বাদ দেননি কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কারও। সানি বলেন, “এটা খারাপ পিচ ছিল না। ৫ দিনের টেস্ট খেলছে না এমন মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে এই পিচে। সেখানে যদি আপনি চালিয়ে খেলার চেষ্টা করেন তিনটি ডট বলের পর, তাহলে বিপদ। সমস্যা এটাই।” পাশাপাশি, তিনি প্রসঙ্গ তোলেন টেম্বা বাভুমারও। সানি বলেন, “বাভুমা ব্যাট করেছেন ধৈর্য, নিষ্ঠা ও কৌশলের সঙ্গে। অন্তত এটা মনে রেখে নামা উচিত ছিল ভারতীয় ব্যাটারদের।”

