দেবজিৎ মুখার্জি: এই মুহূর্তে চরম হতাশ দেশের ক্রিকেটমহল। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদেরও একই অবস্থা। কলকাতার পর এবার গুয়াহাটিতেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হলো ভারতীয় ক্রিকেট দল। ৪০৮ রানে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করল প্রোটিয়ারা। অন্তিম দিনে অনেকেই আশা করেছিলেন যে মাটি আঁকড়ে পড়ে ব্যাট করবেন দলের ব্যাটিং বিভাগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বরং ঘুর্নিতেই জব্দ হয়ে গেল তারা। ১৪০ রানে অলআউট গোটা দল। অন্যদিকে খুশির হাওয়া বইছে প্রোটিয়া শিবিরে। ২-০ ফলাফলে সিরিজ জিতে এখন আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে দলের ক্রিকেটারদের।
তবে এই পরাজয়ের সঙ্গে একাধিক লজ্জার নজির গড়লো টিম ইন্ডিয়া। কী সেই নজিরগুলি? প্রথমত, এটি টিম ইন্ডিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মার্জিনের পরাজয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তারা ৩৪২ রানে পরাজিত হয়েছিল নাগপুরে ২০০৪ সালে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩৪১ রানে হেরেছিল তারা করাচিতে ২০০৬ সালে। দ্বিতীয়ত, দেশের মাটিতে এই নিয়ে তৃতীয়বার চুনকাম হলো ‘মেন ইন ব্লু’, যার মধ্যে দুবার হয়েছে গম্ভীর জামানায়। এছাড়া দেশের মাটিতে এই প্রথমবার ভারত কোন ইনিংসে আড়াইশো রানের গন্ডি ছুতে পারেনি।
৫৬ বছর পর এমনটা হলো যে ঘরের মাটিতে পরপর দুটি টেস্টে দলের কোনও ব্যাটার শতরান করতে পারেননি। এর আগে এমনটা হয়েছিল ১৯৬৯ সালে কিউইদের বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে রয়েছে আরও কয়েকটি লজ্জার নজির। ৬৬ বছর পর এমনটা হলো যে ভারত নিজেদের ঘরের মাটিতে ৭টির মধ্যে ৫টি টেস্ট হেরেছে। পাশাপাশি, দুই মরশুম মিলিয়ে পাঁচটি টেস্টে পরাজিত হয়েছে টিম ইন্ডিয়া ২৫ বছর পর। বলে রাখা ভালো, এই টেস্টে পরাজয়ের জেরে অধঃপতন জারি রয়েছে টিম ইন্ডিয়ার ‘ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ’এর পয়েন্ট টেবিলে।
প্রসঙ্গত, প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ৪৮৯ রান। জবাবে লিড নিতে নেমে ভারত অলআউট হয় ২০১ রানে। এরপর ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে ২৬০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। রান তাড়া করতে নেমে ভারত অলআউট হয় ১৪০ রানে। ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় মার্কো ইয়ান্সেনকে। এছাড়া সিরিজের সেরা ঘোষণা করা হয় দলের আরেক তারকা সিমন হার্মারকে।
