দেবজিৎ মুখার্জি: বিরাট কোহলি ব্যাট করতে নামলে গোটা স্টেডিয়ামে কেমন পরিস্থিতি বা আবহাওয়া তৈরি হয়, তা না বললেও চলে। যেমনটা ঘটেছিল ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে, ঠিক একই জিনিস ঘটল রাঁচিতেও। কী সেই ঘটনা? কিং কোহলির পায়ে লুটিয়ে পড়লেন তাঁর এক ভক্ত। যদিও পুলিশ তাঁকে আটক করে রেখেছে (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত), কিন্তু এমন দৃশ্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ঝড়ের গতিতে। বলতে গেলে, নেটপাড়ায় এই নিয়ে এখন একপ্রকার চলছে জোর আলোচনা।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার বিরাটের সেঞ্চুরি করা থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ পেসার মার্কো জানসেনের বলে চার হাঁকিয়ে শতরান করেন কিং কোহলি। সেই মুহূর্তে মাঠে নিরাপত্তা ভেঙে ঢুকে পড়েন বিরাটের সেই ভক্ত এবং লুটিয়ে পড়েন তাঁর পায়ে। যদিও সেই যুবককে সরিয়ে নিয়ে যান নিরাপত্তা কর্মীরা। এই মুহূর্তে সেই যুবক পুলিশি হেফাজতে। তবে জানা গিয়েছে, সেই কোহলি ভক্ত পুড়শুড়ার বাসিন্দা সৌভিক। চলতি বছরে যখন আইপিএল চলছিল, তখন কাবলে থেকে সাইকেল করে বেঙ্গালুরু রওনা দিয়েছিলেন তিনি, তবে সাক্ষাৎ হয়নি। সেই কারণে রবিবার তিনি আবার চেষ্টা করেন একবারের জন্য বিরাটের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেওয়ার। তাই সরাসরি রাঁচি চলে গিয়েছিলেন।
সৌভিকের স্বপ্নপূরণ হলেও অনিশ্চিত তাঁর বাড়ি ফেরা। তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন পরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষকে এবং সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার। মনে করা হচ্ছে যে সোমবার সবকিছু বোঝা যাবে যে কিভাবে যাবতীয় সব আইনি জটিলতা পার করে মুক্তি পেতে পারেন সৌভিক। বলে রাখা ভালো, ইডেনে যেই বিরাট ভক্ত মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন, তাঁর নাম ঋতুপর্ণ পাখিরা। তাঁকেও অবশ্য লকআপে থাকতে হয়েছিল এবং পরে ছাড়া পেয়েছিলেন। তবে এমন ঘটনা বারবার প্রমাণ করছে যে বিরাট দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে কতটা জায়গাজুড়ে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে তোলে ৮ উইকেটে ৩৪৯। সর্বোচ্চ ১৩০ রানের ইনিংস খেলেন বিরাট কোহলি। এছাড়া রোহিত শর্মা করেন ৫৭ এবং অধিনায়ক কেএল রাহুল করেন ৬০। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট হারালেও পরে একাধিক বড় পার্টনারশিপ গড়ে জয়ের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা অলআউট হয়ে যায় ৩৩২ রানে। ম্যাচের সেরা হন বিরাট কোহলি।

