দেবজিৎ মুখার্জি: চলতি বছরে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আজও কেউ ভুলতে পারেননি। যেভাবে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান একাধিক ক্রিকেটপ্রেমী, সেই কথা ভাবলে আজও আঁতকে ওঠেন অনেকে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, কেউ হয়তো ভেবে উঠতে পারেননি যে প্রিয় দলের জয়ের উচ্ছ্বাস দেখতে গিয়ে এমন পরিণতি হবে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটে গেল আরও একটি ঘটনা। এবারের ঘটনাস্থল ওড়িশার কটক। কী ঘটল সেখানে? ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা আসন্ন টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টিকিট কাটতে গিয়ে রীতিমতো পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই ভিডিও ভাইরাল পর্যন্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে।
চলতি মাসের ৯ তারিখে শুরু হবে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচটি খেলা হবে কটকে। বর্তমানে টিম ইন্ডিয়া যেই ফর্মে রয়েছে ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটে, তারপর দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের উন্মাদনা একেবারে তুঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে। বলা ভালো, সকলেই এখন অপেক্ষায় রয়েছেন সিরিজ শুরু হওয়ার। তবে তার আগে রীতিমতো রণক্ষেত্র মার্কা পরিস্থিতি দেখা গেল বরাবততি স্টেডিয়ামে। ক্রিকেটপ্রেমীদের অভিযোগ, অনলাইনে নাকি পরিমাণ মতো টিকিট ছাড়া হয়নি। সেখান থেকেই গোটা বিষয়টির সূত্রপাত।
যেই ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ভাইরাল হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে স্টেডিয়ামের গেটের বাইরে অজস্র ক্রিকেটপ্রেমী অপেক্ষা করছেন এবং তা খোলামাত্রই সকলে হামলে পড়েন টিকিট কাউন্টারে। এখানেই শেষ নয়, ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত করতে দেখা যায় তাঁদের। আমজনতা এমন পরিস্থিতি দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, স্টেডিয়ামের সিট ক্যাপাসিটি অনুযায়ী অনলাইনে অনেক কম টিকিট ছাড়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এমন ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা নিয়েও।
সূত্রের খবর, স্টেডিয়ামের ৪৫ হাজার আসনের মধ্যে বিক্রির জন্য ছাড়া হয়েছে ২০ হাজার আসনের টিকিট। ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, বাকিগুলি বরাদ্দ করা হয়েছে ভিআইপিদের জন্য বা দেওয়া হচ্ছে পাস হিসেবে। অন্যদিকে কালোবাজারি বেড়েছে টিকিটের অভাবের কারণে। ৬ হাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজারের টিকিট। আবার ৬ হাজারের টিকিটগুলি বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজারে। শুক্রবার শুরু হয়েছে অফলাইন টিকিট বিক্রি এবং তা ঘিরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

