দেবজিৎ মুখার্জি: জাতীয় রাজনীতিতে নক্ষত্রপতন! না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি হাত শিবির, ওরফে কংগ্রেসের বর্ষিয়ান নেতা শিবরাজ পাতিল। শুক্রবার সকালে তিনি চলে যান তারাদের দেশে। খবর জানাজানি হতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে অনুগামীদের উপর। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক মহলের একাধিক ব্যক্তিও বেশ দুঃখ পেয়েছেন বর্ষিয়ান নেতার প্রয়াণে। অনেকে সমাজমাধ্যমেও পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
মহারাষ্ট্রের লাতুরে শিবরাজ পাতিল মারা যান। ৯০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ব্যাপারে জানা গিয়েছে যে কয়েকদিন ধরেই তিনি ভুগছিলেন বয়স সংক্রান্ত অসুস্থতায়। দিনের পর দিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি মারা গিয়েছেন, এটি জানার পরই বিভিন্ন দলের নেতারা শোকপ্রকাশ করেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে। দুঃখপ্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরো অনেকে।
শিবরাজ পাতিলের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১২ অক্টোবর চাকুর গ্রামে। তিনি পুরসভার প্রধান হন কম বয়সেই। তিনি মহারাষ্ট্রের বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন ১৯৭২ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত। এছাড়া ১৯৮০ থেকে ১৯৯৯, টানা ১৯ বছর লাতুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি জিতেছিলেন। এছাড়াও তাঁকে লোকসভার স্পিকারের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে ১৯৯১-৯৬ সাল অবধি। এছাড়া ২০১০-১৫ পর্যন্ত প্রয়াত কংগ্রেস নেতা পাঞ্জাবের রাজ্যপাল ও চন্ডিগড়ের প্রশাসক। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন তিনি এবং সেই সময়ে তাঁকে বেশ কয়েকটি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাতে দেখা গিয়েছে।
কংগ্রেস নেতা হলেও সকল দলের নেতার কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। এছাড়াও আরো একাধিক গুন ছিল তাঁর, যার মধ্যে অন্যতম সংবিধানিক ব্যাপারে তাঁর জ্ঞান। তাছাড়া খোলা জনসভা হোক কি ব্যক্তিগত আলোচনা, কখনোই তিনি বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেন না। এমনকি জীবনের অন্তিম দিন অবধি তিনি এটি বজায় রেখেছিলেন। তাঁর সকলকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া দুঃখ দিয়েছে সমগ্র রাজনৈতিক মহলকে।

