দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, এক বিশৃঙ্খল মুহুর্তের সাক্ষী হলো গোটা তিলোত্তমা। শুক্রবার ভোররাতে কলকাতায় আসেন আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার, তথা বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলার, লিওনেল মেসি। শনিবার, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। ব্যাপক সংখ্যার মানুষ এসে ভিড় জমিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে গোটা স্টেডিয়াম রণক্ষেত্রের চেহারা নেবে। রীতিমতো তান্ডব চলে সেখানে। পরিস্থিতি এই পর্যায়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান আর্জেন্টাইন তারকা। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। কিন্তু তিনিও শেষমেষ পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হন। স্টেডিয়ামে আসেননি বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খানও।
শুধু রাজ্যের নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেসি ভক্ত সহ বহু ফুটবলপ্রেমী এসে ভিড় জমান কলকাতায়। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, ভিআইপিরা রীতিমতো ঘিরে রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকাকে। কম করে নাকি ১০০ জন ছিলেন। এদিন মেসির সঙ্গে ছিলেন আরেক জনপ্রিয় ফুটবলার সুয়ারেজও। বহু টাকার টিকিট কেনা সত্ত্বেও যখন ভক্তরা তাঁদের প্রিয় তারকাকে দেখতে পাননি, তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপরই তা নেয় উগ্র রূপ। একেবারে তোলপাড় চলে গোটা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। পুলিশকেও বেশ হিমশিম খেতে হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। এরপর দর্শকরা স্টেডিয়ামের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের রাগ প্রকাশ করেন। সকলেরই অভিযোগ, এত টাকা দিয়ে টিকিট কাটা সত্বেও তাঁরা মেসিকে দেখা থেকে বঞ্চিত হন। আয়োজকদের বিরুদ্ধে অব্যবস্থার অভিযোগ তোলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই নিয়ে সরব হয়েছেন অনেকে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যম থেকে ক্ষমা পর্যন্ত চেয়েছেন। তিনিও আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন। এখানেই শেষ নয়, একটি তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে। যদিও শেষমেষ গ্রেফতার করা হয়েছে মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিমানবন্দর থেকে। সাংবাদিকদের রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজিব কুমার জানিয়েছেন যে শতদ্রু দত্তর তরফ থেকে মুচলেখা দেওয়া হয়েছে যে দর্শকদের ফেরত দেওয়া হবে টিকিটের দাম। পরে এডিজি জাভেদ শামিম জানান এফআইআর দায়ের ও তদন্ত শুরু করার কথা। তবে এতকিছু সত্বেও দিনের শেষে যেই ঘটনার সাক্ষী হয়েছে কলকাতা সহ গোটা ভারতবর্ষ, তাতে অনেকেই মনে করছেন যে শহরের নাম বদনাম হয়েছে।

