দেবজিৎ মুখার্জি: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অত্যাচার ইস্যুতে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি, যদিও সেই বিষয়ে নাক গলাবে না ‘এ বাংলার মুখ’। যেভাবে পদ্মাপাড়ে লাগাতার মৌলবাদীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা, তা দেখে খুব্ধ ভারতবাসীরা। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সেলেব ও সাধারণ মানুষ, সকলেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন এবং পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। যে নৃশংসভাবে দিপু দাসকে হত্যা করে চলেছে পৈশাচিক উল্লাস, তা নিন্দা তো কুঁড়িয়েছেই, পাশাপাশি সকলে ভারত সরকারকে পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
ওপার বাংলায় হওয়া অত্যাচারের আঁচ পড়েছে এপার বাংলাতেও। ইতিমধ্যেই সাধু-সন্তরা এই নারকীয় হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছেন। যদিও সেই মিছিল পরে যে আকার নিয়েছে, তা রাজনৈতিক অ্যাঙ্গেল নিচ্ছে বলে আমরা সেদিকে যাব না। তবে বুধবার ওল্ড মালদহের মনোহরপুর মুচিয়ায় খোল করতাল নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয় সনাতনীদের তরফ থেকে। তবে শুধু মালদহ নয়, বনগাঁর ভারত-বাংলাদেশ পেট্রাপোল সীমান্তেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। যদিও এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল বিজেপির এবং তাতে উপস্থিত ছিলেন দলের বিধায়ক অসীম সরকার সহ আরো অনেকে।
মুচিয়ায় সীমান্তে প্রতিবাদ জানানো হয় এক হিন্দু সংগঠনের তরফ থেকে। উপস্থিত সকল বিক্ষোভকারী দ্রুত হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি তোলেন। এক বিক্ষোভকারীর বক্তব্য, “প্রতিবাদ আরো জোরালো হবে যদি বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হয়। কাঁটাতার মানবো না আমরা।” অন্য এক আন্দোলনকারী আবার মহাম্মদ ইউনুসকে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “এক হও বিশ্বের সকল হিন্দু। বন্ধ হোক বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর অত্যাচার। আর যদি কোনও হিন্দুর উপর অত্যাচার হয়, তাহলে কোনও বাধা মানবো না আমরা। বাংলাদেশে এই আন্দোলনের ঢেউ আঁচড়ে পড়বে। সতর্ক হও ইউনুস।”
বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে প্রতীকী কুশপুতুল পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেখানে উপস্থিত বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার এই বিষয়ে নিজের অবস্থান জানান। তিনি বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর হওয়া অত্যাচার বন্ধের দাবি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “ওখানে যেই পরিস্থিতি, সেটার প্রতিবাদ যদি এখন না করা হয়, তাহলে সেটা বিপদ ওপার বাংলা সহ গোটা বিশ্বের জন্য। বন্ধ হোক বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর অত্যাচার।”

