দেবজিৎ মুখার্জি: বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে এমনিতেই উত্তপ্ত সেই দেশ সহ ভারতের রাজনীতি, (যদিও নিজেদের নীতি অনুযায়ী ‘এ বাংলার মুখ’ তাতে নাক গলাবে না), তার মাঝেই এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেল অসমে। বড়দিন পালন করা হচ্ছিল নলবাড়ি জেলার পানিগাঁওয়ের সেন্ট মেরি স্কুলে। এখানেই শেষ নয়, স্কুলের অদূরে এক দোকানেও হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযোগের আঙুল উঠেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হামলা চালানোর সময় ওঠে ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় হিন্দু রাষ্ট্র’ স্লোগান। থানায়ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বঙ্গাইগাঁও ডায়োসিসের অন্তর্গত সেই স্কুলটি। ফাদার জেমস ভাদাকেইল পুরো ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “দুপুর তিনটে নাগাদ কয়েকজন স্কুলে আসেন এবং প্রিন্সিপালের খোঁজ করেন। যদিও তখন প্রিন্সিপাল ছিলেন না। এরপরই ভাঙচুর চালানো হয়। স্কুলে ভর্তির বিজ্ঞাপনে ব্যানার যেটি বসানো হয়েছিল, তা ভেঙে দেওয়া হয়। ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় হিন্দু রাষ্ট্র’ স্লোগান দিচ্ছিল ওরা।”
অন্যদিকে পুলিশ সুপার বিবেকানন্দ দাস বলেছেন, “ফুলের পাশাপাশি একটি দোকানেও হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে স্যান্টা টুপি ও মুখোশ বিক্রি করা হচ্ছিল। যে অভিযোগ জমা পড়েছে, সেটার ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করছি আমরা। আমরা জানতে পেরেছি যেই দলটি হামলা চালিয়েছে, সবমিলিয়ে ৯ জন ছিল।” ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সেই এলাকা সহ গোটা অসমে। বলা ভালো, এক ভয়ের পরিবেশ যে তৈরি হয়েছে সেই চত্বরে, তা না বললেও চলে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতেও এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে শুরু হয়েছে চরম সমালোচনা। নানা ব্যবহারকারী নানা মত তুলে ধরেছেন কমেন্টবক্সে। পাশাপাশি, শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। যদিও সেই ব্যাপারে আমরা যেতে অনিচ্ছুক। আমাদের মূল উদ্দেশ্য সমাজে চলতে থাকা এই জাতীয় ঘটনাগুলি নিজেদের পাঠক-বন্ধুদের কাছে তুলে ধরা। সেক্ষেত্রে নজর রয়েছে যে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই ঘটনায়।

