দেবজিৎ মুখার্জি, পূর্ব মেদিনীপুর: বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত কাছে চলে আসছে, ততই উত্তেজনার পারদ চড়ছে রাজ্যে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, সকলেই নিজেদের প্রচারে সবটা দিচ্ছে। বুধবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। নন্দীগ্রামে শহীদ স্মরণ দিবস কর্মসূচিতে একে অপরকে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ করল ঘাসফুল ও গেরুয়া শিবির। এক প্রান্তে যখন শুভেন্দু অধিকারী নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, তখন অন্যদিকে নন্দীগ্রাম বিধায়ককে পাল্টা কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিন সকালে সোনাচূড়া থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এই আন্দোলনের হাত ধরে। অথচ জয়ের পর একবারও তিনি প্রয়োজন বোধ করেননি গত পাঁচ বছরে এই মাটিতে পা রাখার। রাজীব গান্ধী থেকে শুরু করে অটল বিহারী বাজপাই, সকলের সঙ্গে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। উনি আন্দোলনের কেস তুলে নেওয়ার কথা বলেছিলেন কিন্তু হাইকোর্ট তা বাতিল করে দেয় ত্রুটিযুক্ত ধারার কারণে।”
বিরোধী দলনেতা এদিন এটাও পরিষ্কার করে দেন যে নন্দীগ্রামের আত্মীয় মনে করেন তিনি নিজেকে। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (নাম না করে) মতো আমি সবার মুখ্যমন্ত্রী চাই। সেটা হতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” পাশাপাশি, রামমন্দির তৈরীরও কথা তোলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি এখানে এসেই থাকব যদি রামমন্দির তৈরি হয়ে যায় নন্দীগ্রামে।” এছাড়া এদিন তিনি এটাও দাবি করেছেন যে নিঃস্বার্থভাবে আন্দোলন করেছেন। বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমি একটুও লাভ ঘরে তুলিনি শহীদ মিনারে রাত কাটিয়ে।”
অন্যদিকে, আবু সুফিয়ানদের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় ভাঙ্গাবেড়াতে। ঘাসফুল শিবিরের নেতৃত্বের অভিযোগ, এখন বিরোধী দলনেতা আন্দোলনের কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিতে চাইছেন সুবিধা মতো দল পাল্টে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে আরো বড় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় সভা থেকে। তাঁদের তরফ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে উৎখাত করার ডাক দেওয়া হয় নন্দীগ্রাম থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে।

