অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে মহারাষ্ট্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন দুই পরিযায়ী শ্রমিক

অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে মহারাষ্ট্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন দুই পরিযায়ী শ্রমিক

দেবজিৎ মুখার্জি, দক্ষিণ দিনাজপুর: বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলায় কথা বলার জন্য বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের ঘটনাগুলিকে ঘিরে এখনো উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই নিয়ে একাধিকবার গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বিজেপি এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে যেভাবে একের পর এক এই জাতীয় ঘটনা উঠে আসছে ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যগুলি থাকে, তাতে পদ্মশিবির যে ভালোরকম অস্বস্তিতে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। 

বুধবার বালুরঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের কষ্টের দিনগুলির কথা তুলে ধরলেন দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার ও গৌতম বর্মন। দুজনেই জানান কিসের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁদের। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের তরফ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এছাড়া ডায়মন্ড হারবার সাংসদ ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধেও। 

অসিত সরকারের বক্তব্য, “মহারাষ্ট্রে জেলে ছিলাম ৭ মাস। একমাত্র আমি জানি কেমন কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। খুব কষ্ট করেছি বাড়ির সকলে। জেল কাটলাম ৭ মাস ধরে।” এরপরই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশংসা করেন। অসিতবাবু বলেন, “আমাকে বের করার অবদান তৃণমূল কংগ্রেসের। কখনোই ভোলা যাবে না এই অবদান। যারা ভুলবে, তারা অমানুষ।” বাড়ি ফিরে কেমন অবস্থা হয়েছিল, তাও জানালেন অসিতবাবু। তিনি বলেন, “ভালো লাগলো বাড়ি ফিরে বউ, বাচ্চার হাসি দেখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। ওনাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।”

অন্যদিকে গৌতম বর্মনের অভিযোগ, “মহারাষ্ট্রের জেলেপাড়ায় কাজ করতে গিয়েছিলাম। ফোন করেছিলাম পুলিশের কাছ থেকে। সুকান্ত মজুমদারের কাছে গিয়েছিল আমার স্ত্রী, কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। উনি বলেন এমনিই বেরিয়ে আসবে জেলের মেয়াদ শেষ হলে। তারপর আর কোনও খোঁজ নেই ৩ মাস। এরপর যোগাযোগ করা হয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে। জেল থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন অভিষেক স্যার। আমরা কোনও সাহায্য পাইনি বিজেপির থেকে। আমাদের খাওয়াদাওয়া, জেলমুক্তির ব্যবস্থা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।” বলে রাখা ভালো, গৌতমবাবু গেরুয়া শিবিরের বুথ সহ-সভাপতিও ছিলেন। কিন্তু তবুও কোনও সাহায্য পাননি দলের থেকে।

গোটা বিষয়টি নিয়ে বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে বিজেপির সরকার। সাংসদ বিজেপির। কিছু পারি না পারি, অন্তত জনপ্রতিনিধি হিসেবে একবার ফোন করে বলতে তো পারি যে যাকে ধরেছেন, তিনি বাংলাদেশী নন। দেখো একবার কি ভুল করেছে। ফোন করে একবার খোঁজ নিতে পারেন না? ট্যাক্স লাগে না তো তাতে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এক পয়সাও বাংলার জন্য কখনো আনেননি। এখানে কিসের তৃণমূল-বিজেপি? মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তো রাজনীতি করেন।” এছাড়া তিনি সুকান্ত মজুমদারকে ‘স্টপেজ মিনিস্টার’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *