দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আর কয়েক ঘন্টা পরই ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হবে মহাযুদ্ধ। হবে ভারতীয় ক্রিকেটের জনপ্রিয় লিগ আইপিএলের প্রথম ম্যাচ। কলকাতা নাইট রাইডার্স মুখোমুখি হবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। ইতিমধ্যেই বিরাট-রাহানেরা মন লাগিয়েছেন প্রস্তুতিতে। দর্শকরাও মুখে রয়েছে ম্যাচের জন্য। যদিও ভিলেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বৃষ্টির। বল নাও গড়াতে পারে। ভেস্তে যেতে পারে গোটা ম্যাচ।
তবে এটি প্রথমবার নয় যখন আইপিএলের কোন মরশুমের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে কেকেআর ও আরসিবি। এর আগেও ইনগ্রাল ম্যাচে দুই দল মাঠে নেমেছে একে অপরের বিরুদ্ধে। সেটি ছিল ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম এডিশনে। সেই সময়ে নাইটদের অধিনায়ক ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহারাজ, ওরফে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক ছিলেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন হেড কোচ জ্যামি, ওরফে রাহুল দ্রাবিড়।
সেই ম্যাচে আরসিবিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিল কেকেআর। ১৪০ রানের ম্যাচ নিজেদের ঝুলিতে তুলেছিলেন নাইট বাহিনী। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২২২ রান তুলেছিল কলকাতা। সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন প্রাক্তন কিউই তারকা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ৭৩ বল খেলে তিনি এই রানটি করেছিলেন এবং অপরাজিতও ছিলেন। তাঁর এই ইনিংসে ছিল দশটি চার এবং ১৩টি ছয়। বলা যায়, একেবারে দাপটের সঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন আরসিবির বোলিং বিভাগকে।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে লজ্জাজনক ভাবে অলআউট হয়ে যায় বেঙ্গালুরু। ৮২ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস। প্রথম থেকেই দ্রুত পড়তে থাকে তাদের উইকেট। কোন ব্যাটারই দুই সংখ্যার রান করতে পারেননি প্রবীণ কুমার ছাড়া। ১৫ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি, যার মধ্যে ছিল একটি চার এবং দুটি ছয়। নাইট বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিজের ঝুলিতে তুলেছিলেন প্রাক্তন তারকা পেসার, তথা বিসিসিআই সিলেকশন কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান, অজিত আগারকার। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও অশোক দিন্দা এবং একটি করে উইকেট পান ইশান্ত শর্মা ও লক্ষ্মীর রতন শুক্লা। ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয়েছিল ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। নাইট ভক্তরা আশা করছেন যে এবারেও এমনটাই কিছু করে দেখাতে পারেন দলের ক্রিকেটাররা। যদিও দেখার বিষয় যে শেষ পর্যন্ত আজকের ম্যাচে কি হয়। আরো বড় প্রশ্ন যে ম্যাচ আদৌ হবে কিনা।
