দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: রবিবাসরীয় দুপুরে এক লজ্জাজনক পরাজয়ের সাক্ষী হল দেশের সকল ক্রিকেটপ্রেমী। ১২৪ রানের মতো সহজ লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে গেল টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং অর্ডার। ১০০ রানের নিচে শেষ হয়ে গেল দ্বিতীয় ইনিংস এবং ম্যাচ নিজেদের ঝুলিতে তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বলতে গেলে, এদিন যে এমনটা হতে পারে, তা অনেকেই আশা করতে পারেননি। বরং ভেবেছিলেন যে সহজেই ম্যাচ নিজেদের নামে করবে ভারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয় তার উল্টোটা। ৩০ রানে ম্যাচ জিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল প্রোটিয়ারা।
তৃতীয় দিনের খেলায় ৭ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১৫৩ রানের। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসের চেয়েও কম রানে শেষ হয় টেম্বা বাভুমাদের দ্বিতীয় ইনিংস। তবে অধিনায়ক বাভুমা ভারতের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধেও অর্ধশতরান করেন। তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৫৫। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন দলের তারকা স্পিনার অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা। এছাড়া মহাম্মদ সিরাজ ও কুলদীপ যাদব দুটি করে উইকেট নিজেদের ঝুলিতে তোলেন। পাশাপাশি, একটি করে উইকেট নিজেদের নামে করতে সফল হন দলের তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, সকল বোলারই উইকেট পেয়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসে।
১২৪ রান তারা করতে নেমে দ্রুত প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া হয় ভারতের দুই ওপেনার কেএল রাহুল ও যশস্বী জয়েসওয়ালকে। ব্যাট হাতে ওয়াশিংটন সুন্দর ছাড়া কেউই তেমন দাগ কাটতে পারেননি। সকলকেই বেশ হাবুডুবু খেতে দেখা যায়। অবশেষে ৯৩ রানের শেষ হয়ে যায় ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস এবং ৩০ রানে ম্যাচ নিজেদের ঝুলিতে তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ জিতে আনন্দে ফেটে পড়েন দলের সকল ক্রিকেটার। অন্যদিকে টিম ইন্ডিয়ার ডাগআউটে দেখা যায় হতাশা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিজের ঝুলিতে তোলেন সিমন হার্মার। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান মার্কো ইয়ানসন ও কেশব মহারাজ। একটি উইকেট তোলেন এডেন মার্করাম। ম্যাচের সেরা ঘোষণা করা হয় সিমন হার্মারকে।

